দেশে হামের সংক্রমণ পরিস্থিতি আবারও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে ৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে Directorate General of Health Services (স্বাস্থ্য অধিদপ্তর)।
রোববার (১৯ এপ্রিল) প্রকাশিত হালনাগাদ প্রতিবেদনে জানানো হয়, শনিবার সকাল ৮টা থেকে রোববার সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ের মধ্যে তিন শিশু হামের উপসর্গে এবং একজন শিশু হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে।
একই সময়ে সারাদেশে হামের উপসর্গ নিয়ে ১ হাজার ১৯৭টি শিশু নতুন করে অসুস্থ হয়েছে। এর মধ্যে ৮০৪ জন শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং ১৬৫ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, আক্রান্তদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে পরিস্থিতি সবচেয়ে বেশি উদ্বেগজনক। শুধুমাত্র এই বিভাগেই ৫৬৩ জন শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে এবং ১৪৮ জন শিশুর হামের লক্ষণ শনাক্ত হয়েছে।
হাসপাতালগুলোতে চাপ বেড়ে যাওয়ায় চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপরও বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। তবে একই সময়ে ৬৪৫টি শিশু চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে, যার মধ্যে ঢাকা বিভাগে ৩০০ জন শিশু রয়েছে।
গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশের মোট পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, এই সময়ের মধ্যে মোট ২৩ হাজার ৬০৬টি শিশুর মধ্যে হামের উপসর্গ দেখা গেছে।
এর মধ্যে ১৫ হাজার ৩২৬টি শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং ৩ হাজার ৪৪৩ জনের হামে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত ১২ হাজার ৩৯৬ জন শিশু চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম একটি দ্রুত ছড়ানো ভাইরাসজনিত রোগ, যা শিশুদের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। সময়মতো টিকা না নেওয়া, পুষ্টিহীনতা এবং জনবহুল পরিবেশে সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের পরিস্থিতিতে টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা এবং দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা জরুরি।
এদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ইতোমধ্যে সরকার দেশের বিভিন্ন জেলায় জরুরি টিকাদান কর্মসূচি শুরু করেছে। তবে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকায় উদ্বেগও বাড়ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করতে পারে, বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে মৃত্যুহার বাড়ার ঝুঁকি থেকে যায়।
সব মিলিয়ে, দেশে হামের সংক্রমণ পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাস্থ্যখাতের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।