পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে পাঁচজন কয়েদির অবশিষ্ট সাজা শর্তসাপেক্ষে মওকুফ করে তাদের মুক্তির আদেশ দিয়েছে সরকার।
রোববার (১৫ মার্চ) রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কারা-২ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সংবিধানের ৪৯ অনুচ্ছেদ অনুসারে রাষ্ট্রপতি বিভিন্ন অপরাধে দণ্ডিত এবং অর্থদণ্ডের বেশি সাজাভোগরত পাঁচজন কয়েদির অবশিষ্ট কারাদণ্ড মওকুফ করেছেন।
শর্তসাপেক্ষে তাদের মুক্তি দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কারা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মুক্তি পাওয়া কয়েদিরা হলেন—চাঁদপুর জেলা কারাগারের কয়েদি আকাশ গিরি প্রকাশ আকাশ দাস (২২), লক্ষ্মীপুর জেলা কারাগারের কয়েদি রবিউল হোসেন (২৫), রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের কয়েদি মো. জিকরুল হক ওরফে জিকু (৪৩), কয়েদি মো. নুরুজ্জামান (২৯) এবং কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারের কয়েদি মো. আব্দুল করিম (৫৬)।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, অন্য কোনো কারণে তাদের আটক রাখার প্রয়োজন না থাকলে জরিমানাসহ প্রযোজ্য শর্ত পূরণ সাপেক্ষে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তাদের অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
ঈদুল ফিতর উপলক্ষে কয়েদিদের মুক্তি দেওয়ার বিষয়টি মূলত মানবিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের সঙ্গে সম্পর্কিত।
বিশেষ উৎসবকে কেন্দ্র করে অনেক সময় কারাবন্দিদের সাজা মওকুফ বা হ্রাস করে তাদের পরিবারের সঙ্গে পুনরায় মিলিত হওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হয়।
এ ধরনের সিদ্ধান্তকে সংশোধনের সুযোগ হিসেবেও দেখা হয়।
বাংলাদেশের সংবিধানের ৪৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি সাজা মওকুফ, স্থগিত বা হ্রাস করার ক্ষমতা রাখেন।
এই সাংবিধানিক ক্ষমতার আওতায় বিশেষ উৎসবের সময় শর্তসাপেক্ষে কিছু কয়েদিকে মুক্তি দেওয়া হয়।
মুক্তির ক্ষেত্রে সাধারণত কিছু বিষয় বিবেচনা করা হয়।
এর মধ্যে রয়েছে সংশ্লিষ্ট কয়েদি তার সাজা কতটুকু ভোগ করেছেন, কারাগারে থাকাকালীন তার আচরণ কেমন ছিল এবং সংশোধনের লক্ষণ দেখা গেছে কি না।
এছাড়া অপরাধের ধরণ এবং সামাজিক নিরাপত্তার বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হয়।
সরকারি সূত্র জানিয়েছে, এসব বিষয় পর্যালোচনা করেই ঈদ উপলক্ষে পাঁচজন কয়েদির সাজা মওকুফ করা হয়েছে।
কসমিক ডেস্ক