রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাটে ফেরিতে ওঠার সময় একটি যাত্রীবাহী বাস পদ্মা নদীতে পড়ে যাওয়ার ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকালে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক সুলতানা আক্তার জানান, উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর মধ্যে ১১ জন নারী, ৪ জন পুরুষ এবং ৮ জন শিশু রয়েছে। তিনি বলেন, সকাল পর্যন্ত মোট ২৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং তাদের অধিকাংশের পরিচয় ইতোমধ্যে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, শনাক্ত হওয়া মরদেহগুলোর মধ্যে ২১ জনের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। বাকি মরদেহগুলোর পরিচয় নিশ্চিতের কাজও অব্যাহত রয়েছে।
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে বুধবার (২৫ মার্চ) বিকাল সোয়া ৫টার দিকে। কুষ্টিয়া থেকে ঢাকাগামী একটি যাত্রীবাহী বাস দৌলতদিয়া ঘাটের ৩ নম্বর পন্টুন দিয়ে ফেরিতে ওঠার সময় হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই তাৎক্ষণিকভাবে দুইজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধার অভিযান শুরু করে ফায়ার সার্ভিস, নৌ-পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন। রাতে উদ্ধার তৎপরতা আরও জোরদার করা হয়। বুধবার রাত সাড়ে ১২টার পর উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’র সহায়তায় নদীতে ডুবে যাওয়া বাসটি টেনে তোলা হয়।
উদ্ধার অভিযান চলাকালে নদী থেকে একে একে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়। এ সময় স্বজনদের আহাজারিতে পুরো এলাকা ভারী হয়ে ওঠে। দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে রাতেই ঘাট এলাকায় ভিড় জমায় নিহতদের স্বজন ও স্থানীয় মানুষজন।
এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা। একই সঙ্গে দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
উল্লেখ্য, দৌলতদিয়া ঘাট দেশের অন্যতম ব্যস্ত নৌ-পথ হওয়ায় এখানে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক যানবাহন ও যাত্রী পারাপার হয়। ফলে সামান্য অসতর্কতাও বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কসমিক ডেস্ক