মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে একাধিক ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (২৮ মার্চ) চালানো এই হামলায় বিমানবন্দরের রাডার ব্যবস্থা উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে কুয়েত নিউজ এজেন্সি।
এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছে কুয়েতের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষও। তারা জানিয়েছে, বিমানবন্দরের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হলেও এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
এই হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আঞ্চলিক সংঘাতের প্রভাব এখন ধীরে ধীরে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক ও পরিবহন অবকাঠামোর ওপরও পড়তে শুরু করেছে।
এদিকে একই দিনে সংযুক্ত আরব আমিরাতেও হামলার ঘটনা ঘটেছে। ভোরবেলায় আবুধাবির খলিফা বন্দরের কাছে অবস্থিত খলিফা ইকোনমিক জোনে ধ্বংসাবশেষ পড়ে কয়েকজন আহত হন। এ ঘটনায় বিভিন্ন স্থাপনার ক্ষতিও হয়েছে বলে জানিয়েছে আবুধাবি মিডিয়া অফিস।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ওই এলাকায় তিনটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে, যা পরে নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। আহতদের মধ্যে একজন পাকিস্তানি নাগরিক রয়েছেন। সব মিলিয়ে আহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ছয়জনে, যাদের আঘাতের মাত্রা সামান্য থেকে মাঝারি বলে জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে, সৌদি আরবেও হামলার ঘটনা ঘটেছে। রাজধানী রিয়াদের কাছাকাছি অবস্থিত প্রিন্স সুলতান বিমান ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। এই ঘাঁটিতে সাধারণত ২ হাজার থেকে ৩ হাজার মার্কিন সেনা অবস্থান করে, যারা মূলত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা এবং সামরিক বিমানে রসদ সরবরাহের কাজ করে থাকে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার গভীর রাতে এই ঘাঁটিতে হামলায় অন্তত ১২ জন মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর। এছাড়া বেশ কয়েকটি মার্কিন জ্বালানি সরবরাহকারী বিমানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই উপসাগরীয় অঞ্চলে হামলার ঘটনা বাড়ছে। বিভিন্ন দেশ ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে ধারাবাহিক আক্রমণ আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
সব মিলিয়ে, কুয়েত বিমানবন্দরে ড্রোন হামলা এবং উপসাগরীয় বিভিন্ন দেশে একযোগে হামলার ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আন্তর্জাতিক মহলের দ্রুত পদক্ষেপ প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কসমিক ডেস্ক