প্রযুক্তি ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে মেইন, যা যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে প্রথম উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ডেটা সেন্টার নির্মাণের ওপর আইনি নিষেধাজ্ঞা জারির উদ্যোগ নিয়েছে এই অঙ্গরাজ্য, যা মূলত দ্রুত বিস্তৃত হওয়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতের অবকাঠামোগত চাপ নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি ডেমোক্র্যাটিক স্টেট প্রতিনিধি মেলানি স্যাকস এ সংক্রান্ত একটি বিল উত্থাপন করেন, যা দলীয় ভোটের ভিত্তিতে পাস হয়েছে। উল্লেখযোগ্যভাবে কিছু রিপাবলিকান সদস্যও এই প্রস্তাবে সমর্থন দিয়েছেন। এখন গভর্নরের স্বাক্ষর পেলেই এটি আইনে পরিণত হবে।
এই আইন অনুযায়ী, ২০২৭ সালের শেষ পর্যন্ত অন্তত ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী কোনো বড় ডেটা সেন্টার নির্মাণ করা যাবে না। এই সময়ের মধ্যে এসব প্রকল্পের পরিবেশগত, অর্থনৈতিক এবং বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপর প্রভাব বিস্তারিতভাবে মূল্যায়ন করা হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, এআই প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির ফলে বিশ্বজুড়ে ডেটা সেন্টারের চাহিদা ব্যাপকভাবে বেড়েছে। এসব ডেটা সেন্টার বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ ব্যবহার করে, যা অনেক ক্ষেত্রে স্থানীয় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। একই সঙ্গে পরিবেশগত ঝুঁকিও বাড়াচ্ছে।
উল্লেখযোগ্য যে, এর আগে সেন্ট চার্লস শহর ডেটা সেন্টার নির্মাণে অস্থায়ী স্থগিতাদেশ দিয়েছিল। তবে রাজ্য পর্যায়ে এই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে মেইনই প্রথম।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের আরও কয়েকটি অঙ্গরাজ্য—যেমন জর্জিয়া, ওকলাহোমা এবং ভার্জিনিয়া—একই ধরনের পদক্ষেপ বিবেচনা করছে। বিশেষ করে বিদ্যুৎ খরচ এবং পরিবেশগত প্রভাব নিয়ে এসব অঞ্চলেও উদ্বেগ বাড়ছে।
গবেষণা প্রতিষ্ঠান ডেটা সেন্টার ওয়াচ জানিয়েছে, স্থানীয় জনগণের বিরোধিতার কারণে গত এক বছরে প্রায় ১৫ হাজার ৬০০ কোটি ডলারের ডেটা সেন্টার প্রকল্প জটিলতার মুখে পড়েছে। এটি দেখায়, প্রযুক্তিগত উন্নয়নের সঙ্গে পরিবেশগত সচেতনতার দ্বন্দ্ব কতটা তীব্র হয়ে উঠছে।
মেইনের গভর্নর জ্যানেট মিলস এই পদক্ষেপের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। তার মতে, এআই ডেটা সেন্টারের দ্রুত সম্প্রসারণ জনসম্পদ, পরিবেশ এবং সাধারণ বিদ্যুৎ গ্রাহকদের ওপর কী ধরনের প্রভাব ফেলছে, তা নিশ্চিতভাবে মূল্যায়ন করা জরুরি।
তবে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্কও তৈরি হয়েছে। ‘বিল্ড আমেরিকান এআই’ উদ্যোগের প্রচারক নাথান লিমার মনে করেন, এই নিষেধাজ্ঞা মেইনের অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তার মতে, এতে দক্ষ কর্মীরা অন্য অঙ্গরাজ্যে চলে যেতে পারেন এবং ভবিষ্যৎ বিনিয়োগের সুযোগ হারাতে পারে মেইন।
অন্যদিকে অ্যাসোসিয়েটেড বিল্ডার্স অ্যান্ড কন্ট্রাক্টরস-এর প্রধান অর্থনীতিবিদ অনির্বাণ বসু বলেন, মেইনের নাগরিকরা ইতোমধ্যেই উচ্চ বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করেন। তাই ডেটা সেন্টারের অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ব্যবহার তাদের জন্য উদ্বেগের বিষয়।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, মেইনের অর্থনীতি ও সংস্কৃতি মূলত মাছ ধরা, শিকার এবং প্রাকৃতিক পরিবেশের ওপর নির্ভরশীল। ফলে বিশাল ডেটা সেন্টার বা ভারী শিল্প অবকাঠামো এই পরিচয়ের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে।
সব মিলিয়ে, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি ও পরিবেশ সংরক্ষণের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে মেইনের এই পদক্ষেপ একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হয়ে উঠতে পারে। ভবিষ্যতে অন্যান্য অঙ্গরাজ্যও একই পথে হাঁটবে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।