দেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ, নিয়ন্ত্রিত এবং আধুনিক করতে ‘ফুয়েল পাস’ নামে একটি মোবাইল অ্যাপ চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ইতোমধ্যে রাজধানী ঢাকার কয়েকটি ফিলিং স্টেশনে পরীক্ষামূলকভাবে এই অ্যাপ ব্যবহার শুরু হয়েছে। প্রাথমিকভাবে মোটরসাইকেলের জন্য চালু হলেও পর্যায়ক্রমে সব ধরনের যানবাহনকে এই সিস্টেমের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
বর্তমানে ঢাকার সাতটি ফিলিং স্টেশনে পাইলট প্রকল্প হিসেবে ‘ফুয়েল পাস’ অ্যাপের ব্যবহার চালু করা হয়েছে। যদিও বাস্তবে ট্রাস্ট ও সোনার বাংলা পাম্প ছাড়া বেশিরভাগ স্টেশনে এখনো পুরোপুরি কার্যক্রম শুরু হয়নি। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, খুব শিগগিরই আরও ১০ থেকে ১৫টি স্টেশনে এই সেবা সম্প্রসারণ করা হবে।
এই অ্যাপের মাধ্যমে জ্বালানি বিতরণ প্রক্রিয়াকে ডিজিটাল করা হবে, যাতে তেল সরবরাহে কোনো অনিয়ম বা অপচয় কমানো যায়। মূলত বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) থেকে প্রাপ্ত তথ্য যাচাইয়ের ভিত্তিতে এই অ্যাপ পরিচালিত হচ্ছে। ফলে শুধুমাত্র নিবন্ধিত যানবাহনই এই সেবার আওতায় আসতে পারবে।
প্রাথমিকভাবে ঢাকা মেট্রোর আওতাধীন মোটরসাইকেল মালিকরা এই অ্যাপে নিবন্ধন করতে পারছেন। শুরুতে কিছু কারিগরি জটিলতা থাকলেও ১৪ এপ্রিল থেকে নিবন্ধন প্রক্রিয়া কিছুটা সহজ হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে বিআরটিএর ডেটাবেজ ও এপিআই সীমাবদ্ধতার কারণে একসঙ্গে সব তথ্য ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে না, যা এই প্রকল্পের একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের আইসিটি শাখার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমানে অ্যাপটির ব্যবহার নিয়ে ফিলিং স্টেশন মালিক ও কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। অনেক পাম্পে এখনো স্মার্টফোন ও ইন্টারনেট সংযোগের ঘাটতি রয়েছে, যা দূর করার জন্য কাজ চলছে।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঢাকার পর চট্টগ্রামেও এই অ্যাপ চালু করা হবে। এরপর পর্যায়ক্রমে দেশের সব জেলায় ‘ফুয়েল পাস’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। লক্ষ্য রয়েছে, আগামী মে মাসের মধ্যে এই সিস্টেম পুরোপুরি কার্যকর করা।
এই অ্যাপ চালু হলে একজন ব্যবহারকারী ইচ্ছামতো দিনে একাধিকবার জ্বালানি নিতে পারবেন না। নির্দিষ্ট সীমা বা রেশনিং ব্যবস্থা চালু করা হবে, যার মাধ্যমে একজন গ্রাহক কতবার এবং কতটুকু তেল নিতে পারবেন তা নির্ধারণ করা থাকবে। এতে করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, অতিরিক্ত মজুত বা প্যানিক বায়িংয়ের মতো সমস্যাগুলো অনেকটাই কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ‘ফুয়েল পাস’ অ্যাপ চালু হলে জ্বালানি খাতে ডিজিটাল স্বচ্ছতা বাড়বে এবং সরকারের তেল সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তিশালী হবে। একইসঙ্গে এটি দেশের জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় একটি বড় প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সূচনা করতে পারে।
তবে সফলভাবে এই সিস্টেম বাস্তবায়নের জন্য প্রযুক্তিগত অবকাঠামো উন্নয়ন, ব্যবহারকারীদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং ফিলিং স্টেশনগুলোর সক্ষমতা বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
কসমিক ডেস্ক