দেশের আইনজীবীদের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সদস্য নির্বাচন-২০২৬ স্থগিত করা হয়েছে। এর ফলে আগামী ১৯ মে নির্ধারিত ভোটগ্রহণ আর অনুষ্ঠিত হচ্ছে না। জ্বালানি সংকটকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় এনে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বুধবার বার কাউন্সিল ভবনে অনুষ্ঠিত এক জরুরি সভায় উপস্থিত সদস্যদের সর্বসম্মতিক্রমে নির্বাচন স্থগিতের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভা শেষে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বর্তমানে দেশজুড়ে বিদ্যমান তীব্র জ্বালানি সংকট নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনায় বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। বিশেষ করে নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের জন্য সারাদেশে প্রচারণা চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। যানবাহন চলাচল সীমিত হওয়া, জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা এবং বিভিন্ন অঞ্চলে যোগাযোগ ব্যবস্থার বিঘ্ন—এসব বিষয় নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে বড় বাধা হিসেবে দেখা দিয়েছে।
এছাড়া দেশের বিভিন্ন আইনজীবী সংগঠন থেকেও নির্বাচন পেছানোর অনুরোধ জানানো হয়। সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন, ঢাকা আইনজীবী সমিতি এবং চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতিসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বার সংগঠন নির্বাচন স্থগিতের পক্ষে মতামত দেয়। তাদের দাবি ছিল, বর্তমান পরিস্থিতিতে সুষ্ঠু ও প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচন আয়োজন সম্ভব নয়।
বার কাউন্সিলের সদস্যরা এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে সর্বসম্মতিক্রমে নির্বাচন স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেন। এর আগে গত ২ এপ্রিল অনুষ্ঠিত এক সভায় ১৯ মে ভোটগ্রহণের দিন নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু নতুন বাস্তবতায় সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ।
এই নির্বাচনে সাধারণ আসনের ৭টি এবং আঞ্চলিক আসনের ৭টি পদে আইনজীবীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কথা ছিল। নির্বাচনকে ঘিরে ইতোমধ্যে প্রার্থীরা প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছিলেন। তবে হঠাৎ এই স্থগিতাদেশ তাদের পরিকল্পনায় পরিবর্তন এনে দিয়েছে।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ বার কাউন্সিল দেশের আইনজীবীদের নিয়ন্ত্রণ, নিবন্ধন এবং পেশাগত মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। তাই এই সংস্থার নির্বাচন আইন পেশাজীবীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রক্রিয়া।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে নিয়মিত নির্বাচন অনুষ্ঠিত না হওয়ায় বর্তমানে অ্যাডহক কমিটির মাধ্যমে বার কাউন্সিলের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। ফলে নির্বাচন আরও বিলম্বিত হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির স্বাভাবিক কার্যক্রম ও নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে।
তবে বার কাউন্সিল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে নতুন করে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হবে। তারা আশা প্রকাশ করেছেন, জ্বালানি সংকট কাটিয়ে উঠলে দ্রুতই নির্বাচন আয়োজন সম্ভব হবে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জ্বালানি সংকটের মতো জাতীয় সমস্যার সরাসরি প্রভাব এখন বিভিন্ন প্রশাসনিক ও পেশাজীবী কার্যক্রমেও পড়তে শুরু করেছে। বার কাউন্সিল নির্বাচন স্থগিত হওয়া তারই একটি বড় উদাহরণ।
কসমিক ডেস্ক