লোহিত সাগরে সামরিক অবস্থান নেওয়ার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে নিয়ন্ত্রণ আরোপের হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। দেশটির সামরিক বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড সেন্টারের প্রধান আলী আবদুল্লাহি এক বিবৃতিতে এই কঠোর বার্তা দেন।
বুধবার ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত ওই বিবৃতিতে তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে সমুদ্রপথে চাপ সৃষ্টি করছে এবং কার্যত হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ চালাচ্ছে। এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ইরানও পাল্টা কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবে বলে সতর্ক করেন তিনি।
আলী আবদুল্লাহি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের বাণিজ্যিক জাহাজ ও তেলবাহী ট্যাংকারের জন্য নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করে, তাহলে তা যুদ্ধবিরতি চুক্তির স্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হবে। এর জবাবে ইরান পারস্য উপসাগর, ওমান সাগর এবং লোহিত সাগরে কোনো ধরনের আমদানি–রপ্তানি কার্যক্রম চলতে দেবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
তার বক্তব্য অনুযায়ী, পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে ইরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথগুলোতে সামরিক উপস্থিতি বাড়াবে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
এদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। বুধবার তেহরানে জরুরি সেবা কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি বলেন, ইরানকে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য করার যেকোনো চেষ্টা ব্যর্থ হবে।
তিনি আরও বলেন, ইরান সবসময় আলোচনার মাধ্যমে সমাধান চায়, তবে তা কোনো ধরনের চাপ বা সামরিক হুমকির মধ্যে সম্ভব নয়। তার মতে, আন্তর্জাতিক আইন ও মানবিক নীতিমালা লঙ্ঘন করে বেসামরিক নাগরিক, শিশু কিংবা হাসপাতাল ও স্কুলের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) দাবি করেছে, ইরানের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ জোরদার করা হয়েছে। তাদের তথ্য অনুযায়ী, এই অবরোধ কার্যকর হওয়ার ৩৬ ঘণ্টার মধ্যেই ইরানে যাওয়া–আসা করা প্রায় সব জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।
সেন্টকমের কমান্ডার ব্র্যাড কুপার বলেন, ইরানের অর্থনীতির প্রায় ৯০ শতাংশই আন্তর্জাতিক সমুদ্র বাণিজ্যের ওপর নির্ভরশীল। ফলে এই অবরোধ দেশটির অর্থনীতিতে বড় ধরনের চাপ তৈরি করবে।
বিশ্লেষকদের মতে, লোহিত সাগর ও হরমুজ প্রণালী ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। কারণ এই দুটি পথ বিশ্ব তেল সরবরাহ ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এদিকে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের আশঙ্কা, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও বিস্তৃত হতে পারে এবং তা বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলবে।
সব মিলিয়ে লোহিত সাগরকে কেন্দ্র করে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা এখন নতুন এক সংকটময় পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা বিশ্ব অর্থনীতি ও ভূ-রাজনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কসমিক ডেস্ক