মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইসরায়েলের সঙ্গে থাকা প্রতিরক্ষা চুক্তি স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে ইতালি। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) ভেরোনায় এক অনুষ্ঠানের ফাঁকে দেশটির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আনসার বরাতে জানা যায়, এই প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় ইতালি ও ইসরায়েলের মধ্যে সামরিক সরঞ্জাম আদান-প্রদান, যৌথ গবেষণা এবং প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি উন্নয়নের কাজ চলছিল। তবে বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকার চুক্তিটির স্বয়ংক্রিয় নবায়ন স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী মেলোনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং লেবানন সীমান্তে ক্রমবর্ধমান অস্থিরতার কারণে ইতালি তার নীতিগত অবস্থান পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য হয়েছে।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান সংঘাত এবং লেবানন সীমান্তে উত্তেজনা বেড়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ইউরোপীয় বিভিন্ন দেশও তাদের কূটনৈতিক অবস্থান পুনর্মূল্যায়ন করছে।
ইতালির সংবাদ সংস্থা আনসা জানায়, প্রধানমন্ত্রী মেলোনি বিশেষভাবে লেবাননে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে (UNIFIL) নিয়োজিত ইতালির সেনাদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তার মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে সেখানে ইতালির সামরিক উপস্থিতি ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
এই প্রেক্ষাপটে ইসরায়েলের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা স্থগিতের সিদ্ধান্তকে একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি শুধু দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতিতে ইউরোপের অবস্থান পরিবর্তনেরও ইঙ্গিত দেয়।
বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিনের এই প্রতিরক্ষা অংশীদারত্ব স্থগিত হওয়ায় ইসরায়েল আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কিছুটা চাপের মুখে পড়তে পারে। বিশেষ করে যখন যুদ্ধ পরিস্থিতি চলমান এবং বিভিন্ন দেশ শান্তি প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানাচ্ছে।
ইতালির এই সিদ্ধান্ত মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। কূটনৈতিক মহলে এটি ইসরায়েলের জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, কারণ ইউরোপীয় ইউনিয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ সদস্য দেশ হিসেবে ইতালির অবস্থান সবসময়ই গুরুত্বপূর্ণ।
এদিকে, ইতালি জানিয়েছে যে তারা শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার পক্ষে অবস্থান অব্যাহত রাখবে এবং ভবিষ্যতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে নতুন করে সহযোগিতার বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে।
কসমিক ডেস্ক