চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চন্দনাইশ এলাকায় এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে এবং আরও চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন। সোমবার (১৩ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৯টার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে, যা স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ও শোকের সৃষ্টি করেছে।
ঘটনাটি ঘটে চন্দনাইশের মক্কা পেট্রল পাম্পের সামনে। প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য অনুযায়ী, একটি চলন্ত নসিমন—যাতে কয়েকজন শ্রমিক যাতায়াত করছিলেন—হঠাৎ পেছন দিক থেকে একটি মালবাহী ট্রাকের ধাক্কায় গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধাক্কার তীব্রতায় নসিমনে থাকা পাঁচজন শ্রমিক মারাত্মকভাবে আহত হন।
দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় লোকজন দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে চন্দনাইশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগের দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক শুভ দেব আহতদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন। তিনি জানান, আহতদের মধ্যে আরমান হোসেন শেখ (৩৫) নামের এক শ্রমিককে হাসপাতালে আনার আগেই মৃত ঘোষণা করা হয়। তার মৃত্যুতে সহকর্মী ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে।
গুরুতর আহতদের মধ্যে আশিক নামের আরেক শ্রমিকের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (চমেক) পাঠানো হয়েছে। বাকিদের চিকিৎসা স্থানীয় হাসপাতালেই চলছে বলে জানা গেছে।
দোহাজারী হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রুহুল আমীন দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, একটি মালবাহী ট্রাক নসিমনটিকে পেছন থেকে ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলেই পাঁচজন আহত হন। তাদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলেও একজনের মৃত্যু হয়েছে। দুর্ঘটনার পরপরই ট্রাক ও নসিমনটি জব্দ করে হাইওয়ে থানায় নেওয়া হয়েছে।
নিহত আরমান হোসেন শেখ পিরোজপুর জেলার নাজিরপুর উপজেলার বাসিন্দা। তার বাবার নাম মোখলেস শেখ। জীবিকার তাগিদে তিনি চট্টগ্রামে কাজ করতেন। হঠাৎ এই দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু পরিবারে গভীর শোকের সৃষ্টি করেছে।
এই দুর্ঘটনা আবারও মহাসড়কে নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং যানবাহনের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষ করে নসিমনের মতো ঝুঁকিপূর্ণ যানবাহন মহাসড়কে চলাচল এবং ভারী যানবাহনের বেপরোয়া গতি প্রায়ই এমন দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে বলে স্থানীয়রা মনে করছেন।
এদিকে, দুর্ঘটনার পর এলাকায় কিছু সময়ের জন্য যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে স্বাভাবিক যান চলাচল নিশ্চিত করে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান করা হচ্ছে।
এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন সচেতন মহল। একইসঙ্গে চালকদের আরও সতর্ক ও দায়িত্বশীল আচরণ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।