চট্টগ্রাম বন্দরে ডিজেল-জেট ফুয়েল, পথে তিন এলএনজি ট্যাংকার The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

চট্টগ্রাম বন্দরে ডিজেল-জেট ফুয়েল, পথে তিন এলএনজি ট্যাংকার

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Mar 29, 2026 ইং
চট্টগ্রাম বন্দরে ডিজেল-জেট ফুয়েল, পথে তিন এলএনজি ট্যাংকার ছবির ক্যাপশন:

দেশের জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে চট্টগ্রাম বন্দরে ধারাবাহিকভাবে জ্বালানিবাহী জাহাজ ভিড়ছে। সর্বশেষ ১০ হাজার টন ডিজেল ও ২০ হাজার টন জেট ফুয়েল নিয়ে ‘গ্রান কুভা’ নামের একটি জাহাজ বন্দরে পৌঁছেছে, যা দেশের জ্বালানি পরিস্থিতিতে সাময়িক স্বস্তি এনে দিতে পারে।

রোববার (২৯ মার্চ) বন্দর সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, সিঙ্গাপুর থেকে আসা এই জাহাজটি বর্তমানে কুতুবদিয়া অ্যাংকরেজে অবস্থান করছে। চীনের প্রতিষ্ঠান ইউনিপেকের সঙ্গে চুক্তির আওতায় এই জ্বালানি সরবরাহ করা হয়েছে।

এদিকে, জ্বালানি আমদানির ধারাবাহিকতায় ওমান থেকে এলপিজি নিয়ে আসা আরেকটি জাহাজও ইতোমধ্যে বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছেছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সূত্র জানিয়েছে, চলতি মার্চ মাসে মোট ১৭টি জ্বালানি তেলবাহী জাহাজ দেশে আসার কথা রয়েছে। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত আটটি জাহাজ পৌঁছেছে এবং আরও ছয়টি জাহাজ পথে রয়েছে।

শুধু তেল নয়, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ বাড়াতেও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে তিনটি এলএনজি ট্যাংকার চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। এর মধ্যে অস্ট্রেলিয়া থেকে ৬১ হাজার ৯৯৭ টন এলএনজি নিয়ে ‘এইচএল পাফিন’ ইতোমধ্যে কুতুবদিয়া উপকূলে এসে পৌঁছেছে।

এছাড়া ইন্দোনেশিয়া থেকে ‘নিউ ব্রেভ’ এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে ‘সেলসিয়াস গ্যালাপাগোস’ নামের আরও দুটি ট্যাংকার বাংলাদেশে আসছে। এই তিনটি ট্যাংকারে মোট প্রায় ১ লাখ ৯৩ হাজার টন এলএনজি রয়েছে, যা দেশের জ্বালানি চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সাধারণত বাংলাদেশে এলএনজি আমদানির বড় অংশ কাতার থেকে আসে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থিরতার কারণে সরবরাহে কিছুটা অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। নির্ধারিত সময়েও কাতার থেকে কয়েকটি চালান না আসায় বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যার সমন্বয় করছে পেট্রোবাংলা।

বন্দর সূত্রে জানা গেছে, মার্চ মাসে এখন পর্যন্ত সাতটি এলএনজি ট্যাংকার দেশে এসেছে, যেখানে সাধারণ সময়ে প্রতি মাসে ১০ থেকে ১১টি ট্যাংকার আসে। এতে বোঝা যাচ্ছে, স্বাভাবিক সরবরাহের তুলনায় কিছুটা ঘাটতি রয়েছে।

অন্যদিকে, সবচেয়ে বড় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে অপরিশোধিত তেল বা ক্রুড অয়েল আমদানিকে ঘিরে। দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডে বর্তমানে ক্রুড অয়েলের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রতিদিন প্রায় ৩ হাজার ৮০০ থেকে ৪ হাজার মেট্রিক টন তেল পরিশোধন করা হলেও নতুন চালান না আসায় মজুত ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে।

জানা গেছে, সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দর থেকে এক লাখ টন ক্রুড অয়েল নিয়ে আসার কথা থাকলেও হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনার কারণে জাহাজটি এখনও রওনা হতে পারেনি। একই কারণে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে আসার কথা থাকা আরেকটি চালানের শিডিউলও বাতিল করা হয়েছে।

বিপিসি সূত্র জানিয়েছে, দেশে বছরে মোট ৬৫ থেকে ৬৮ লাখ টন জ্বালানি তেলের চাহিদা রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ২০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল আমদানি করে দেশে পরিশোধন করা হয় এবং বাকি ৮০ শতাংশ পরিশোধিত জ্বালানি হিসেবে বিভিন্ন দেশ থেকে আনা হয়।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা ও বৈশ্বিক পরিস্থিতির চাপ থাকলেও আপাতত বড় ধরনের জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা নেই। তবে ক্রুড অয়েলের সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও চাপে পড়তে পারে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য ফেব্রুয়ারিতে দুই দফায় লম্বা ছুটি

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য ফেব্রুয়ারিতে দুই দফায় লম্বা ছুটি