বাংলা নববর্ষকে ঘিরে উৎসবের আমেজে সেজে উঠেছে দেশের জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র কক্সবাজার। পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে সৈকত নগরীর হোটেল-মোটেল, সমুদ্রসৈকত ও পর্যটন এলাকাজুড়ে দেখা যাচ্ছে বর্ণিল সাজসজ্জা এবং উৎসবমুখর পরিবেশ।
যদিও প্রত্যাশিত পরিমাণ বুকিং হয়নি বলে জানিয়েছেন হোটেল সংশ্লিষ্টরা, তবুও পর্যটকদের আনন্দ দিতে কোনো আয়োজনেই ঘাটতি রাখেননি তারা। সৈকতপাড়ের তারকামানের হোটেলগুলোতে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। আলপনায় রঙিন হয়ে উঠেছে হোটেলের প্রাঙ্গণ, আর শিল্পীদের তুলির আঁচড়ে ফুটে উঠছে বাঙালির ঐতিহ্যবাহী বৈশাখী রূপ।
শুধু বাহিরে নয়, হোটেলের ভেতরেও যুক্ত হয়েছে বৈশাখের ছোঁয়া। বসানো হয়েছে বৈশাখি মেলার স্টল, সাজানো হয়েছে ব্যানার ও আলোকসজ্জা। পর্যটকদের জন্য বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, পিঠা উৎসব, মেহেদী উৎসব এবং বাউল গানের আয়োজন করা হয়েছে।
একটি হোটেলের ব্যবস্থাপক জানান, তারা চান পর্যটকরা যেন নতুন বছরকে আনন্দমুখর পরিবেশে উদযাপন করতে পারেন। তাই তিন দিনব্যাপী বিভিন্ন আয়োজন রাখা হয়েছে, যাতে সবাই উৎসবের আমেজ উপভোগ করতে পারেন।
অন্যদিকে, কিছু হোটেলে বিশেষ বুফে লাঞ্চের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে, যেখানে অংশগ্রহণকারীরা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বিভিন্ন খেলাধুলায় অংশ নিতে পারবেন। আগের বছরের তুলনায় এবার অনেক আয়োজন উন্মুক্ত রাখা হয়েছে, যাতে বাইরের দর্শনার্থীরাও অংশ নিতে পারেন।
শুধু হোটেলেই নয়, সমুদ্রসৈকতের বালুচরেও বসছে বৈশাখি উৎসব। সেখানে আয়োজন করা হয়েছে বৈশাখি মেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এসব আয়োজন ঘিরে পুরো সৈকত এলাকা হয়ে উঠেছে প্রাণবন্ত ও মুখর।
পর্যটন সংশ্লিষ্টদের আশা, পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে পর্যটকের সংখ্যা বাড়বে এবং এতে স্থানীয় ব্যবসায়িক কার্যক্রমে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। বৈশাখ বাঙালির অন্যতম প্রধান উৎসব হওয়ায় এই সময়টিতে স্বাভাবিকভাবেই পর্যটকদের আগ্রহ বেশি থাকে।
এদিকে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নেওয়া হয়েছে কঠোর ব্যবস্থা। ট্যুরিস্ট পুলিশের তত্ত্বাবধানে গড়ে তোলা হয়েছে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা বলয়। সৈকতের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট যেমন সুগন্ধা, লাবনী ও কলাতলী এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
ট্যুরিস্ট পুলিশ জানিয়েছে, পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ২৪ ঘণ্টা মোবাইল টিম ও টহল দল দায়িত্ব পালন করবে। পাশাপাশি কুইক রেসপন্স টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে, যাতে যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
পর্যটকদের যেকোনো সমস্যায় দ্রুত সহায়তা দিতে কন্ট্রোল রুম চালু রাখা হয়েছে এবং নির্দিষ্ট নম্বরে যোগাযোগের আহ্বান জানানো হয়েছে।
সব মিলিয়ে বর্ণিল সাজসজ্জা, সাংস্কৃতিক আয়োজন ও বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থার মাধ্যমে নতুন বছরকে বরণ করে নিতে প্রস্তুত কক্সবাজার। সংশ্লিষ্টদের আশা, এই উৎসবমুখর পরিবেশ পর্যটন খাতে নতুন প্রাণ সঞ্চার করবে এবং দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে এই সৈকত নগরী।
কসমিক ডেস্ক