রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাট-এ পদ্মা নদীতে বাসডুবির মর্মান্তিক ঘটনায় অলৌকিকভাবে প্রাণে বেঁচে ফিরেছেন কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার যুবক খাইরুল ইসলাম (২৫)। মাত্র পাঁচ সেকেন্ডের ব্যবধানে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসেন তিনি।
খাইরুল ইসলাম ঢাকার একটি গার্মেন্টস কারখানায় মেশিন অপারেটর হিসেবে কাজ করেন। ঈদের ছুটি শেষে গত বুধবার (২৫ মার্চ) কুষ্টিয়া থেকে ঢাকাগামী সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি বাসে করে কর্মস্থলে ফিরছিলেন তিনি।
তিনি জানান, খোকসা বাসস্ট্যান্ড থেকে বিকেল পৌনে ৩টার দিকে বাসটি ছাড়ে এবং সব আসন যাত্রীতে পূর্ণ ছিল। দৌলতদিয়া ঘাটে পৌঁছে ফেরিতে ওঠার সময় হঠাৎ একটি প্রচণ্ড ঝাঁকুনি লাগে।
খাইরুল বলেন, “মুহূর্তের মধ্যেই বাসটি নদীতে পড়ে যায়। ঠিক সেই সময় আমি সিট থেকে উঠে দরজার দিকে যাই এবং মাত্র ৫ সেকেন্ডের মধ্যে নদীতে লাফ দিয়ে দিই।”
তিনি আরও বলেন, কীভাবে নদীতে পড়লেন তা ঠিকমতো মনে নেই, তবে সবকিছু খুব দ্রুত ঘটে যায়। সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হলেও সেখানে এক ব্যক্তি সাহায্যের নামে তার মুঠোফোন নিয়ে চলে যায়।
ঘটনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরে খাইরুল জানান, তার পাশের সিটের যাত্রী কিছু সময়ের জন্য নেমে গিয়ে পরে আবার ফিরে আসেন। তাকে বসতে জায়গা দিতে দাঁড়ানোর সময়ই বাসে ঝাঁকুনি লাগে এবং তিনি দরজা দিয়ে ছিটকে পড়ে যান।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাসটির প্রতিটি আসন পূর্ণ ছিল এবং অনেক নারী যাত্রীর সঙ্গে শিশু ছিল। দুর্ঘটনার সময় চালক নিজেই গাড়ি চালাচ্ছিলেন।
সৌহার্দ্য পরিবহনের খোকসা কাউন্টারের দায়িত্বপ্রাপ্ত রাকিব হোসেন জানান, বি-১ ও বি-২ আসনের যাত্রীরা খোকসা থেকে উঠেছিলেন। তাদের মধ্যে খাইরুল ইসলাম জীবিত ফিরলেও বি-১ আসনের যাত্রী রাজিব বিশ্বাস নিহত হয়েছেন।
তিনি আরও জানান, চালক আরমানের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং ঘটনাকে ঘিরে চালক সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে।
এই দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত কুষ্টিয়ার অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন মর্জিনা খাতুন (৫৬), রাজিব বিশ্বাস (২৮), ইস্রাফিল (৩) এবং আয়েশা সিদ্দিকা (১৩)।
মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনা একদিকে যেমন শোকের ছায়া ফেলেছে, অন্যদিকে খাইরুল ইসলামের বেঁচে ফেরার ঘটনাটি হয়ে উঠেছে এক অবিশ্বাস্য জীবনসংগ্রামের গল্প।
কসমিক ডেস্ক