ঢাকার সবুজবাগ এলাকার এক নারী উদ্যোক্তা তার প্রতিষ্ঠিত ব্যবসা হারিয়ে বর্তমানে চরম বিপাকে পড়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন। ‘নিউ বিডি নিট গার্মেন্টস’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং ডিরেক্টর (এমডি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন তিনি। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তিনি দাবি করেছেন, তার ব্যবসায়িক পার্টনার ও স্বামীর যোগসাজশে তাকে প্রতিষ্ঠান থেকে সরিয়ে দিয়ে ব্যবসাটি জোরপূর্বক দখল করা হয়েছে।
মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে নিজের আইনজীবীর চেম্বারে উপস্থিত হয়ে ভুক্তভোগী নারী উদ্যোক্তা এসব অভিযোগ তুলে ধরেন। তিনি জানান, ২০১৬ সাল থেকে তার প্রতিষ্ঠানটি ভালোভাবেই পরিচালিত হচ্ছিল। কিন্তু করোনাকালে আর্থিক সংকট দেখা দিলে তিনি বাধ্য হয়ে একটি পার্টনার নেন। সেই পার্টনারকে নির্দিষ্ট শর্তে প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ দেওয়া হয়।
তবে সময়ের সঙ্গে পরিস্থিতি বদলে যায়। তার অভিযোগ অনুযায়ী, নতুন পার্টনার সোয়াইব আহমেদ তার স্বামী শামছুল ওয়াদুদ খোন্দকারের সঙ্গে যোগসাজশ করে তাকে ব্যবসা থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা শুরু করেন। একপর্যায়ে তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে চাপ প্রয়োগ করা হয় বলেও দাবি করেন তিনি। এমনকি ৫০০ টাকার একটি স্ট্যাম্পে জোর করে তার স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন।
ভুক্তভোগী বলেন, করোনাকালে তিনি কঠোর পরিশ্রম করে প্রতিষ্ঠানটি টিকিয়ে রেখেছিলেন। কিন্তু এখন সেটি তার হাতছাড়া হয়ে গেছে। তিনি অভিযোগ করেন, তার স্বামী তার বাসা থেকে ব্যবসা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র, চেকসহ নানা নথি নিয়ে গেছেন এবং সেগুলো ব্যবহার করে প্রতিষ্ঠানের মালিকানা দাবি করছেন।
আরও অভিযোগ করে তিনি বলেন, তার স্বামী বিয়ের সম্পর্ক অস্বীকার করছেন, যদিও পূর্বে হলফনামার মাধ্যমে বিয়ের দাবি করেছিলেন। এই পরিস্থিতিতে তিনি একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। এরপর থেকেই তার স্বামী ও ব্যবসায়িক পার্টনার যৌথভাবে তাকে হয়রানি করছেন বলে জানান তিনি। ঢাকা, বগুড়া ও জামালপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়েছে, যার ফলে তাকে প্রায় প্রতিদিন আদালতে যেতে হচ্ছে।
তিনি আরও দাবি করেন, তার করা মামলাগুলোর আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকলেও তা কার্যকর করা হচ্ছে না। এতে তিনি ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে মনে করছেন। একইসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, অভিযুক্তরা রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে পার পেয়ে যাচ্ছেন।
এই পরিস্থিতিতে কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে বিচার দাবি করেন। তিনি বলেন, তিনি ন্যায়বিচার চান এবং তার বৈধভাবে প্রতিষ্ঠিত ব্যবসা ফিরে পেতে চান।
বাদীপক্ষের আইনজীবী সফিক জামান সংবাদ সম্মেলনে বলেন, সাম্প্রতিক শিল্প ও বাণিজ্য খাতের অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে একটি সংঘবদ্ধ চক্র প্রতারণার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি দখল করেছে। তার দাবি, পরিকল্পিতভাবে একাধিক মিথ্যা মামলা দিয়ে ভুক্তভোগীকে মানসিক ও আইনি চাপের মধ্যে রাখা হয়েছে, যা মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল।
তিনি আরও বলেন, এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা সম্ভব এবং ভুক্তভোগী তার প্রতিষ্ঠানের মালিকানা ফিরে পাবেন বলে তারা আশাবাদী।
এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী নারী উদ্যোক্তা। তার অভিযোগ, এটি শুধু একটি ব্যক্তিগত বিরোধ নয়, বরং একটি সুপরিকল্পিত জালিয়াতি ও দখলের ঘটনা, যার সুষ্ঠু বিচার হওয়া প্রয়োজন।