চীনের বেইজিং থেকে ঢাকার রুটে পরিচালিত এয়ার চায়নার একাধিক আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিলের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এয়ারলাইন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অপারেশনাল কারণে এপ্রিল ও মে মাসের চারটি নির্ধারিত ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।
রবিবার (১২ এপ্রিল) এয়ার চায়না সূত্রে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়। বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে রয়েছে এপ্রিল মাসের ২৫ তারিখ এবং মে মাসের ২, ৯ ও ১০ তারিখের ফ্লাইট। এই দিনগুলোতে বেইজিং থেকে ঢাকায় আগত ফ্লাইট পরিচালিত হবে না।
এয়ারলাইনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যেসব দিনে বেইজিং থেকে ঢাকাগামী ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে, সেসব দিনে ঢাকায় থেকে বেইজিংগামী ফ্লাইটগুলোও পরিচালিত হবে না। ফলে উভয় দিকের যাত্রীরাই এই সিদ্ধান্তের কারণে প্রভাবিত হবেন।
তবে ফ্লাইট বাতিলের নির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। শুধুমাত্র ‘অপারেশনাল কারণ’ উল্লেখ করে বিষয়টি ব্যাখ্যা করা হয়েছে। এ কারণে যাত্রীদের মধ্যে কিছুটা অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
ফ্লাইট বাতিলের ফলে যাত্রীদের ভোগান্তি হওয়ায় দুঃখ প্রকাশ করেছে এয়ার চায়না কর্তৃপক্ষ। যেসব যাত্রীর টিকিট এই নির্ধারিত তারিখগুলোতে বুক করা ছিল, তাদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এয়ারলাইনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যাত্রীরা চাইলে তাদের টিকিট পুনরায় বুকিং (রি-বুকিং) করতে পারবেন। এছাড়া প্রয়োজন অনুযায়ী টিকিটের সম্পূর্ণ মূল্য ফেরত (রিফান্ড) নেওয়ার সুযোগও রাখা হয়েছে।
যাত্রীদের সুবিধার্থে সংশ্লিষ্ট ট্রাভেল এজেন্সি বা এয়ার চায়নার কাস্টমার সাপোর্টের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এতে করে যাত্রীরা তাদের ভ্রমণ পরিকল্পনা নতুন করে সাজাতে পারবেন এবং সম্ভাব্য ভোগান্তি কমাতে পারবেন।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনায় বিভিন্ন সময় অপারেশনাল বা কারিগরি কারণে এমন সিদ্ধান্ত নিতে হয়। তবে আগাম ঘোষণা দেওয়ায় যাত্রীরা বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ পাচ্ছেন, যা একটি ইতিবাচক দিক।
ঢাকা-বেইজিং রুটটি ব্যবসা, শিক্ষা এবং পর্যটনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি আন্তর্জাতিক রুট। এই রুটে নিয়মিত যাতায়াতকারী যাত্রীদের জন্য ফ্লাইট বাতিলের এই ঘোষণা কিছুটা সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে।
সব মিলিয়ে, এয়ার চায়নার এই সিদ্ধান্ত সাময়িক হলেও সংশ্লিষ্ট যাত্রীদের জন্য কিছুটা ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে রি-বুকিং ও রিফান্ড সুবিধা থাকায় পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
কসমিক ডেস্ক