জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলায় অবৈধভাবে জ্বালানি তেল মজুত রেখে অতিরিক্ত দামে বিক্রির অভিযোগে এক ব্যবসায়ীকে জরিমানা করেছে প্রশাসন। এ ঘটনায় স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে এবং জ্বালানি বাজারে অনিয়মের বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) রাত ১১টার দিকে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আসমা-উল হুসনার নেতৃত্বে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে মো. জামরুল মিয়া নামে ওই ব্যবসায়ীকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে তিনি অনুমোদন ছাড়াই পেট্রোল ও ডিজেল সংগ্রহ করে নিজের দোকানে মজুত রাখতেন এবং পরে তা সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে অনেক বেশি দামে বিক্রি করতেন। বিশেষ করে স্থানীয় একটি ফিলিং স্টেশন থেকে তেল সংগ্রহ করে তা পুনরায় বিক্রির মাধ্যমে অতিরিক্ত লাভ করার চেষ্টা করছিলেন তিনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বকশীগঞ্জের তিনানীপাড়া এলাকায় পরেশ চন্দ্র সাহা ফিলিং স্টেশনের সামনে নিজের দোকানে এ কার্যক্রম পরিচালনা করতেন জামরুল মিয়া। বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে চললেও সম্প্রতি স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে প্রশাসনের নজরে আসে।
এরপর ঘটনাস্থলে অভিযান চালিয়ে সত্যতা পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে তাকে জরিমানা করা হয়। অভিযানের সময় তার দোকানে অবৈধভাবে মজুত রাখা জ্বালানি তেলের প্রমাণও পাওয়া যায় বলে জানায় প্রশাসন।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) আসমা-উল হুসনা জানান, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনের আওতায় এই জরিমানা করা হয়েছে। তিনি বলেন, “সরকার নির্ধারিত দামের বাইরে জ্বালানি তেল বিক্রি করা সম্পূর্ণ অবৈধ। আমরা প্রমাণ পেয়েছি যে তিনি দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের কার্যক্রম চালিয়ে আসছিলেন।”
তিনি আরও জানান, জ্বালানি তেল একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পণ্য, যা দেশের অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। তাই এই খাতে কোনো ধরনের অনিয়ম বা কারসাজি বরদাশত করা হবে না।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এ ধরনের অবৈধ কার্যক্রম শুধু বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করে না, বরং সাধারণ ভোক্তাদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে। অনেক ক্ষেত্রে পরিবহন খরচ বেড়ে যায়, যার প্রভাব পড়ে পণ্যের দামে।
স্থানীয়দের মতে, প্রশাসনের এই পদক্ষেপ সময়োপযোগী হয়েছে। তারা আশা করছেন, নিয়মিত এ ধরনের অভিযান পরিচালনা করা হলে বাজারে স্বচ্ছতা ফিরে আসবে এবং অসাধু ব্যবসায়ীরা নিরুৎসাহিত হবে।
এদিকে প্রশাসন জানিয়েছে, শুধু বকশীগঞ্জ নয়, জেলার অন্যান্য এলাকাতেও জ্বালানি তেলের বাজারে নজরদারি বাড়ানো হবে। কোথাও অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, এই অভিযান জ্বালানি খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের স্বার্থ রক্ষায় এ ধরনের কার্যক্রম আরও জোরদার করা প্রয়োজন।
কসমিক ডেস্ক