ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হলে আরও বড় ধরনের সামরিক হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump। আলোচনার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে দেওয়া এই মন্তব্যে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।
স্থানীয় সময় শুক্রবার (১০ এপ্রিল) এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যেই ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের প্রস্তুতি জোরদার করেছে। তিনি জানান, মার্কিন রণতরীগুলোকে অত্যাধুনিক অস্ত্র ও গোলাবারুদ দিয়ে সজ্জিত করা হচ্ছে, যা প্রয়োজনে ব্যবহার করা হবে।
ট্রাম্প তার এই সামরিক প্রস্তুতিকে একটি ‘রিসেট’ বা নতুন কৌশলগত বিন্যাস হিসেবে উল্লেখ করেন। তার ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্র এখন এমন এক পর্যায়ে রয়েছে, যেখানে প্রয়োজন হলে তারা আরও শক্তিশালী ও কার্যকর হামলা চালাতে সক্ষম। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, যদি শান্তি আলোচনা থেকে কোনো কার্যকর চুক্তি না আসে, তাহলে এই প্রস্তুত অস্ত্র ব্যবহার করতে দ্বিধা করবে না ওয়াশিংটন।
ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিতব্য ইরান-যুক্তরাষ্ট্র বৈঠককে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা চলছে। এই বৈঠক সফল হবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, “আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই এর ফলাফল জানা যাবে।”
এদিকে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প আরও কঠোর ভাষায় ইরানকে সমালোচনা করেন। তিনি দাবি করেন, ইরানের হাতে কোনো শক্তিশালী কৌশল নেই এবং তারা আন্তর্জাতিক জলপথ ব্যবহার করে বিশ্বের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে চাইছে।
অন্যদিকে, ইরানের পক্ষ থেকেও যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আস্থাহীনতার কথা স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে। দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার Mohammad Bagher Ghalibaf অভিযোগ করেন, অতীতে একাধিকবার যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার মাঝপথে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে এবং এমনকি সামরিক হামলাও চালিয়েছে।
তিনি বলেন, ইরানের পক্ষ থেকে আলোচনায় সদিচ্ছা থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি তাদের আস্থা নেই। তবে যদি যুক্তরাষ্ট্র একটি সম্মানজনক ও বাস্তবসম্মত চুক্তির জন্য প্রস্তুত থাকে এবং ইরানের অধিকারকে স্বীকৃতি দেয়, তাহলে তেহরানও ইতিবাচকভাবে সাড়া দেবে।
পাঁচ সপ্তাহের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর সম্প্রতি পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান দুই সপ্তাহের একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। তবে এই যুদ্ধবিরতির মধ্যেও উত্তেজনা পুরোপুরি কমেনি। বিশেষ করে লেবানন ও অন্যান্য অঞ্চলে চলমান হামলার কারণে পরিস্থিতি এখনও অনিশ্চিত রয়ে গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইসলামাবাদের এই বৈঠক শুধু দুই দেশের জন্য নয়, বরং পুরো মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদি এই আলোচনা সফল হয়, তাহলে দীর্ঘদিনের সংঘাতের একটি কূটনৈতিক সমাধান মিলতে পারে। অন্যদিকে, আলোচনা ব্যর্থ হলে নতুন করে বড় ধরনের সংঘাত শুরু হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে উভয় পক্ষের বক্তব্যে যেমন কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ইঙ্গিত রয়েছে, তেমনি রয়েছে শক্তি প্রদর্শনের কড়া বার্তাও। ফলে বিশ্বজুড়ে এখন সবার নজর এই আলোচনার ফলাফলের দিকে।
কসমিক ডেস্ক