নির্বাচন সামনে রেখে বাড়ছে গাড়ি কেনাবেচা, রাজস্ব আয়েও উল্লম্ফন The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

নির্বাচন সামনে রেখে বাড়ছে গাড়ি কেনাবেচা, রাজস্ব আয়েও উল্লম্ফন

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jan 30, 2026 ইং
নির্বাচন সামনে রেখে বাড়ছে গাড়ি কেনাবেচা, রাজস্ব আয়েও উল্লম্ফন ছবির ক্যাপশন:
ad728

ডলার সংকট ও আমদানি নিরুৎসাহিতকরণ নীতির কারণে কয়েক বছর ধরে দেশের গাড়ির বাজারে স্থবিরতা বিরাজ করছিল। বিলাসী পণ্য হিসেবে ব্যক্তিগত নতুন ও রিকন্ডিশনড গাড়ি আমদানিতে একাধিকবার শুল্ক ও কর বৃদ্ধি করায় আমদানিও কমে গিয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সেই চিত্র পাল্টাতে শুরু করেছে।

চট্টগ্রাম বন্দর সূত্রে জানা গেছে, গত ছয় মাসে বন্দরে সাত হাজারেরও বেশি গাড়ি এসেছে। এর মধ্যে ছয় হাজার ৬৫১টি গাড়ি আমদানিকারকরা ছাড় করিয়ে নিয়েছেন। এই সময় শুধু গাড়ি খাত থেকেই সরকার রাজস্ব পেয়েছে প্রায় এক হাজার ২০০ কোটি টাকা। স্বল্প সময়ে এত বেশি গাড়ি আমদানি ও ডেলিভারির ঘটনা অতীতের সব রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে।

গাড়ি ব্যবসায়ীদের ভাষ্য অনুযায়ী, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মাইক্রোবাস, হায়েচ ও জিপজাতীয় গাড়ির চাহিদা বেড়েছে। পাশাপাশি নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে দেশে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে—এমন প্রত্যাশা থেকেও অনেক ব্যক্তি ব্যক্তিগত গাড়ি কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ফলে গত তিন-চার বছরের মন্দাভাব কাটতে শুরু করেছে।

চট্টগ্রাম বন্দরের কার শেড এলাকায় সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রতিদিন গড়ে ৪০ থেকে ৫০টি ব্যক্তিগত গাড়ি ডেলিভারি দেওয়া হচ্ছে। কয়েক মাস আগেও যেখানে দৈনিক আট থেকে ১০টির বেশি গাড়ি ডেলিভারি হতো না, সেখানে এখন সংখ্যা কয়েকগুণ বেড়েছে। বর্তমানে বন্দরের দুটি কার শেডে ডেলিভারির অপেক্ষায় থাকা গাড়ির সংখ্যা ৪৭১টি, যা ধারণক্ষমতার তুলনায় অনেক কম।

বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, চলতি অর্থবছরের জুলাই মাসে মাত্র ৪৩৯টি গাড়ি আমদানি হলেও আগস্টে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় এক হাজার ৫০৫টিতে। এরপর থেকে প্রতিমাসেই এক হাজারের বেশি গাড়ি আমদানি হচ্ছে। গত ডিসেম্বরে এসেছে এক হাজার ৫৮টি গাড়ি। ছয় মাসে ১৬টি বিশেষায়িত রো-রো জাহাজে করে ৮৪১টি নতুন ও ছয় হাজার ২২৫টি রিকন্ডিশনড গাড়ি দেশে এসেছে।

চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালক (প্রশাসন) ও মুখপাত্র ওমর ফারুক জানান, বন্দর জেটিতে নামানোর পর ৩০ দিনের মধ্যে গাড়ি ডেলিভারি নেওয়ার নিয়ম রয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ডেলিভারি না নিলে গাড়ি কাস্টমসের মাধ্যমে নিলামের জন্য হস্তান্তর করা হয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সময়মতো ডেলিভারি নেওয়ার প্রবণতা বেড়েছে। গত ছয় মাসে আমদানি হওয়া গাড়ির মধ্যে মাত্র ১০৩টি নির্ধারিত সময় অতিক্রম করেছে।

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের সহকারী কমিশনার শরীফ আল আমিন জানান, ২০২৫–২৬ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে গাড়ি ছাড় করে রাজস্ব আদায় হয়েছে এক হাজার ১৫৩ কোটি টাকা। আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এক হাজার ৩৪টি বেশি গাড়ি ডেলিভারি হয়েছে এবং রাজস্ব আদায় বেড়েছে ১২৪ কোটি টাকা।

অন্যদিকে, কিছু ব্যবসায়ী মনে করছেন, আমদানির এই ঊর্ধ্বগতি পুরোপুরি বাজারের বিক্রির প্রতিফলন নয়। রিকন্ডিশনড গাড়ি ব্যবসায়ীদের সংগঠন বারভিডার সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান জানান, মোংলা বন্দরে অতিরিক্ত সময়ের পর গাড়ি ডেলিভারিতে জরিমানা আরোপের কারণে অনেক ব্যবসায়ী চট্টগ্রাম বন্দরমুখী হয়েছেন। পাশাপাশি চট্টগ্রাম বন্দরে স্টোর রেন্ট বেশি হওয়ায় ব্যবসায়ীরা দ্রুত ডিউটি পরিশোধ করে গাড়ি শো-রুমে সরিয়ে নিচ্ছেন। এসব কারণেও আমদানির পরিসংখ্যান বেশি দেখা যাচ্ছে বলে তিনি মত দেন।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে

সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে