সারাদেশে দোকানপাট ও শপিংমল খোলা রাখার সময়সূচিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এখন থেকে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো সন্ধ্যা ৭টার পরিবর্তে রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা রাখা যাবে। এ সিদ্ধান্ত শুক্রবার (১২ জুন) থেকে কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির পক্ষ থেকে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। সেখানে বলা হয়, দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য সচল রাখা এবং ক্রেতা–বিক্রেতার সুবিধা বিবেচনায় সময় বাড়ানোর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সংগঠনের সভাপতি মো. হেলাল উদ্দিন জানান, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে নতুন সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, এখন থেকে সকাল ১১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত দেশের সব শপিংমল, মার্কেট ও দোকানপাট খোলা থাকবে।
তিনি আরও জানান, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু মৌখিকভাবে এই সিদ্ধান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। একই সঙ্গে তিনি এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সহযোগিতা করার জন্য সংশ্লিষ্টদের আহ্বান জানান।
দোকান মালিক সমিতির পক্ষ থেকে বলা হয়, ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল বিকেল ও সন্ধ্যার পর আরও কিছু সময় দোকান খোলা রাখার সুযোগ দেওয়া। কারণ অনেক কর্মজীবী মানুষ দিনের বেলায় কেনাকাটার সুযোগ পান না। নতুন সময়সূচি সেই চাহিদা পূরণে সহায়ক হবে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।
বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতেও নতুন সময়সূচির বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দেশের বিভিন্ন শপিংমল, মার্কেট ও দোকানসমূহ সকাল ১১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা রাখা যাবে। পাশাপাশি মেলা, বাণিজ্য মেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলাকালীন ক্ষেত্রেও এই সময়সূচি প্রযোজ্য হবে।
তবে বিজ্ঞপ্তিতে আরও স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, এই নির্দেশনার বাইরে থাকবে কিছু জরুরি সেবা। এর মধ্যে রয়েছে খাবারের দোকান, হাসপাতাল এবং ওষুধের দোকান। এসব প্রতিষ্ঠান তাদের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী খোলা থাকবে।
এর আগে ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে দোকানপাট ও শপিংমল রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। সেই সময় বিশেষ পরিস্থিতিতে ব্যবসা-বাণিজ্য স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত সময় দেওয়া হয়েছিল। তবে ঈদের পর আবার আগের নিয়মে সন্ধ্যা ৭টায় বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়।
নতুন এই সিদ্ধান্তকে ব্যবসায়ী মহল ইতিবাচকভাবে দেখছে। তাদের মতে, এতে বিক্রিবাটা বাড়বে এবং বাজারে ক্রেতাদের চাপও তুলনামূলকভাবে কমে আসবে। অন্যদিকে সাধারণ মানুষও কাজ শেষে স্বাচ্ছন্দ্যে কেনাকাটার সুযোগ পাবেন।
সব মিলিয়ে, নতুন সময়সূচি কার্যকর হলে দেশের খুচরা ব্যবসা খাতে একটি ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
কসমিক ডেস্ক