ইসরাইলের লেবানন হামলা: যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয় দাবি The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

ইসরাইলের লেবানন হামলা: যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয় দাবি

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Apr 9, 2026 ইং
ইসরাইলের লেবানন হামলা: যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয় দাবি ছবির ক্যাপশন:

লেবাননে ইসরাইলের বিমান হামলা তীব্র আকার ধারণ করেছে। দেশটির কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, তারা যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সঙ্গে এমন একটি বোঝাপড়ায় পৌঁছেছে যে, হিজবুল্লাহকে পুরোপুরি নিরস্ত্র না করা পর্যন্ত লেবাননে হামলা চালানো হবে। ইসরাইল স্বীকার করেছে, হিজবুল্লাহর সক্ষমতাকে আগে তারা সঠিকভাবে মূল্যায়ন করতে পারেনি। বিশেষভাবে দেশটির মধ্যাঞ্চল পর্যন্ত পৌঁছানোর সামর্থ্য সম্পন্ন মধ্যপল্লের ক্ষেপণাস্ত্রগুলো তাদের উদ্বিগ্ন করেছে।

পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় গত ৭ এপ্রিল ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। এই বিরতি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়ই নিশ্চিত করেছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং তাদের মিত্ররা যুদ্ধবিরতিতে একমত হয়েছে। তবে হিজবুল্লাহ যুদ্ধবিরতি মেনে নিয়েছে, কিন্তু ইসরাইল তা মানতে চায় না।

বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দফতর জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে মার্কি হামলা বাতিলের সিদ্ধান্ত সমর্থন করলেও লেবাননের ওপর তা প্রযোজ্য হবে না। নেতানিয়াহু হুঁঙ্কার দিয়ে বলেছেন, লেবাননে হামলা অব্যাহত থাকবে। যুক্তরাষ্ট্রও সমর্থন জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে হওয়া দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে লেবানন অন্তর্ভুক্ত নয়। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স হাঙ্গেরি সফরে সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘ইরানিরা ভেবেছিল লেবাননও অন্তর্ভুক্ত, কিন্তু বাস্তবে তা নয়।’

ফলে যুদ্ধবিরতির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই লেবাননের রাজধানী বৈরুতসহ বিভিন্ন এলাকায় ইসরাইলের বিমান হামলা আরও তীব্র হয়। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের বিরুদ্ধে তাদের লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়ে ইসরাইল হিজবুল্লাহর ওপর আরও বেশি জোর দিয়ে হামলা চালাচ্ছে। মাত্র ১০ মিনিটের ব্যবধানে ইসরাইলি বিমান বাহিনী লেবাননের প্রায় ১০০টি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়। এতে অন্তত ২৫৪ জন নিহত ও এক হাজারেরও বেশি আহত হয়েছে।

ইসরাইলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ইরানকে ঘিরে সংঘাত একটি বিষয়, আর লেবাননের যুদ্ধ অন্য। তারা স্বীকার করেছে, হিজবুল্লাহকে পুরোপুরি নিরস্ত্র করতে হলে পুরো লেবানন দখল করতে হবে, যা তাদের মতে সম্ভব নয়। সুতরাং একমাত্র সমাধান হতে পারে রাজনৈতিক—লেবানন সরকার ও সেনাবাহিনী হিজবুল্লাহ নিরস্ত্রীকরণের দায়িত্ব নেবে।

ইসরাইলের বিরোধী রাজনীতিকরা খোলাখুলি অভিযোগ তুলছেন যে, প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু ইরান ইস্যুতে তার যুদ্ধের লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছেন। লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় হামলার ফলে হাসপাতাল রোগীতে উপচে পড়ছে এবং উদ্ধারকর্মীরা সারারাত ধরে ধ্বংসস্তূপ থেকে আহত ও নিহতদের বের করার চেষ্টা চালাচ্ছেন। হিজবুল্লাহ দাবি করেছে, লেবাননকেও যুদ্ধবিরতির আওতায় আনা উচিত, নাহলে চলমান হামলা চুক্তিকে দুর্বল করবে।

এই পরিস্থিতিতে লেবানন ব্যাপক মানবিক সংকটের মুখোমুখি, শহরের বহু আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে, হাজারো পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়েছে এবং চিকিৎসা সেবা যথেষ্ট নয়। আন্তর্জাতিক মহল উদ্বেগ প্রকাশ করছে, এবং লেবাননের পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যের জটিল নিরাপত্তা চিত্রকে আরও কঠিন করে তুলছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা