দেশের জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে নতুন করে উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। এরই অংশ হিসেবে মালয়েশিয়া থেকে মোট ৫১ হাজার মেট্রিক টন অকটেন ও ফার্নেস অয়েল নিয়ে দুটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরের পথে রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আগামী ৮ এপ্রিল জাহাজ দুটি বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)-এর সহকারী ব্যবস্থাপক (গণসংযোগ) ফারজিন হাসান মৌমিতা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, নির্ধারিত সময় অনুযায়ী জাহাজ দুটি চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে এসে নোঙর করবে এবং পরবর্তীতে ধাপে ধাপে জ্বালানি তেল খালাস কার্যক্রম শুরু হবে।
বিপিসি সূত্রে জানা গেছে, ‘এমটি সেন্ট্রাল স্টার’ নামের একটি জাহাজ মালয়েশিয়া থেকে ২৬ হাজার মেট্রিক টন পরিশোধিত অকটেন বহন করছে। জাহাজটি ৮ এপ্রিল রাতে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। একই দিনে ‘এমটি ইস্টার্ন কুইন্স’ নামের আরেকটি জাহাজ প্রায় ২৫ হাজার মেট্রিক টন ফার্নেস অয়েল নিয়ে বন্দরে পৌঁছাবে।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহে অস্থিরতা দেখা দিলেও বাংলাদেশে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ধারাবাহিকভাবে জ্বালানি তেল আমদানি করা হচ্ছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, যার প্রভাব পড়তে পারে দেশীয় বাজারেও। তবে সেই ঝুঁকি মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি নিচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
বন্দর সংশ্লিষ্টরা জানান, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে গত ৩১ মার্চ পর্যন্ত মোট ৩৮টি জাহাজ বিভিন্ন ধরনের জ্বালানি তেল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে ভিড়েছে। এছাড়া চলতি এপ্রিল মাসের প্রথম সপ্তাহেই আরও ৬টি জাহাজ জ্বালানি তেল নিয়ে বন্দরে এসেছে। এর ফলে দেশে জ্বালানি তেলের মজুদ পরিস্থিতি এখনো স্থিতিশীল রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে চলমান উত্তেজনা দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে। সে কারণে আগাম আমদানি বাড়ানো একটি কৌশলগত সিদ্ধান্ত। এতে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্পখাত এবং পরিবহন ব্যবস্থায় জ্বালানি সংকট এড়ানো সম্ভব হবে।
এদিকে ফার্নেস অয়েল মূলত বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে ব্যবহৃত হয়, আর অকটেন ব্যবহৃত হয় পরিবহন খাতে। এই দুই ধরনের জ্বালানির পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা না গেলে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক কার্যক্রমে প্রভাব পড়তে পারে। তাই সরকার এই সরবরাহ চেইন সচল রাখতে নিয়মিত নজরদারি করছে।
চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজ ভিড়ার পর দ্রুত খালাস নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যাতে কোনো ধরনের বিলম্ব না হয়, সে জন্য বন্দরের কার্যক্রমে বিশেষ নজরদারি রাখা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ধারাবাহিক আমদানির ফলে দেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে এবং সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলা সহজ হবে।
কসমিক ডেস্ক