বছর ঘুরে মুসলিম উম্মাহর দুয়ারে আবারো হাজির হয়েছে পবিত্র ঈদুল ফিতর। এক মাসের সিয়াম সাধনা, সংযম, ধৈর্য আর আত্মশুদ্ধির পর একফালি চাঁদের হাসিতে ঘোষণা হয়েছে খুশির ঈদের। এই উৎসব কেবল ভোজন বা নতুন পোশাকের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি একে অপরের প্রতি ভালোবাসা, সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধের প্রতীক।
আজ শনিবার সারা দেশ জুড়ে উদযাপিত হচ্ছে মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে উৎসবের আমেজ। চাঁদ দেখার পরপরই রেডিও-টেলিভিশনে বেজে উঠেছে কাজী নজরুল ইসলাম-এর কালজয়ী গান—‘ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এল খুশীর ঈদ...’।
হিজরি বর্ষপঞ্জির চান্দ্র মাস অনুযায়ী ২৯ রমজানের সন্ধ্যায় জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির বৈঠকের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে ঈদের ঘোষণা দেওয়া হয়। এর আগেই সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ঈদ উদযাপিত হয়েছে। বাংলাদেশের কিছু এলাকাতেও সেই অনুযায়ী এক দিন আগে ঈদ পালন করেছেন মুসল্লিরা।
ইসলাম ধর্মে ঈদুল ফিতরের বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। ‘ফিতর’ শব্দের অর্থ ভঙ্গ করা, অর্থাৎ রোজা ভঙ্গের আনন্দ। এক মাস তারাবির নামাজ, সাহরি-ইফতার, জাকাত-ফিতরা ও ইবাদত-বন্দেগির পর মহান আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে বান্দাদের জন্য এই ঈদ এক বিশেষ পুরস্কার হিসেবে বিবেচিত হয়।
ঈদকে ঘিরে রাজধানীর প্রধান প্রধান সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলো সাজানো হয়েছে জাতীয় পতাকা ও ‘ঈদ মোবারক’ ব্যানারে। বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে আয়োজন করা হয়েছে বিশেষ অনুষ্ঠান। হাসপাতাল, কারাগার, এতিমখানা ও শিশুসদনে উন্নত খাবারের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। টেলিভিশন ও রেডিও চ্যানেলগুলো প্রচার করছে ঈদ উপলক্ষে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা।
ঈদকে কেন্দ্র করে শেষ মুহূর্তের কেনাকাটায় ব্যস্ত হয়ে উঠেছে মানুষ। নতুন পোশাকের গন্ধ, আতরের সুবাস, সেমাই-চিনির হিসাব—সব মিলিয়ে এক উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে সর্বত্র। দর্জিদের দোকানে চলছে শেষ মুহূর্তের কাজ, আর শিশুদের চোখে-মুখে ফুটে উঠছে ঈদের আনন্দ।
ঈদের দিন সকালে গোসল ও নামাজের প্রস্তুতি নিয়ে মুসল্লিরা অংশ নেন ঈদের জামাতে। নামাজ শেষে একে অপরকে কোলাকুলি করে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এরপর অনেকে কবরস্থানে গিয়ে প্রিয়জনের জন্য দোয়া করেন। দিনভর আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুদের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ ও আপ্যায়নের মধ্য দিয়ে কাটে এই আনন্দঘন দিন।
এক মাসের সংযম, ধৈর্য ও আত্মশুদ্ধির শিক্ষা বুকে ধারণ করেই আসে ঈদ। তাই এই উৎসব কেবল আনন্দের নয়, বরং ক্ষমা, ভালোবাসা ও মানবিকতার এক অনন্য প্রকাশ।
কসমিক ডেস্ক