হাইফায় ভবন ধস, ধ্বংসস্তূপে আটকে বহু মানুষ The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

হাইফায় ভবন ধস, ধ্বংসস্তূপে আটকে বহু মানুষ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Apr 6, 2026 ইং
হাইফায় ভবন ধস, ধ্বংসস্তূপে আটকে বহু মানুষ ছবির ক্যাপশন:

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে নতুন করে সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলীয় শহর Haifa-তে। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সেখানে একটি বহুতল ভবন ধসে পড়েছে, যার ফলে ধ্বংসস্তূপের নিচে বহু মানুষ আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ঘটনাটিকে চলমান সংঘাতের মধ্যে অন্যতম জটিল পরিস্থিতি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও উদ্ধারকারী সংস্থাগুলো দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে। ইসরায়েলের ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউ সার্ভিসের এক কর্মকর্তার বরাতে দেশটির সংবাদমাধ্যম Channel 12 জানিয়েছে, ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের কাছে পৌঁছাতে উদ্ধারকর্মীরা ‘আপ্রাণ চেষ্টা’ চালিয়ে যাচ্ছেন। উদ্ধারকাজ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় তা ধীরগতিতে এগোচ্ছে, তবে প্রতিটি সম্ভাব্য স্থানে অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে।

প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রটি সরাসরি একটি পাঁচতলা ভবনে আঘাত হানে, যার ফলে মুহূর্তের মধ্যেই ভবনটি আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে ধসে পড়ে। এতে অন্তত ১১ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানিয়েছে জরুরি সেবা বিভাগ। আহতদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে এবং তাদের চিকিৎসা চলছে।

এদিকে, ইসরায়েলের অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, এখনো চারজন নিখোঁজ রয়েছেন। দেশটির আরেক সংবাদমাধ্যম Yedioth Ahronoth জানিয়েছে, নিখোঁজদের পাশাপাশি আরও অনেকেই ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফলে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চল একাধিকবার হামলার শিকার হয়েছে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। এই হামলাটি সেই ধারাবাহিকতারই অংশ বলে মনে করা হচ্ছে, যা পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলছে।

উদ্ধারকর্মীরা ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ করছেন। তবে ভেঙে পড়া কাঠামোর ভেতরে আটকে পড়া মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে কাজ চালানো হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে হাতে-কলমে অনুসন্ধানও চালানো হচ্ছে, যাতে জীবিত কাউকে দ্রুত উদ্ধার করা সম্ভব হয়।

এই ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। একই সঙ্গে কর্তৃপক্ষ জনগণকে অপ্রয়োজনে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় না যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে, যাতে উদ্ধার কাজে কোনো বাধা সৃষ্টি না হয়।

সব মিলিয়ে, হাইফায় সংঘটিত এই হামলা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতকে আরও তীব্র করে তুলেছে। উদ্ধার অভিযান শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির চিত্র স্পষ্ট হবে না। তবে প্রাথমিক তথ্যই ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, পরিস্থিতি অত্যন্ত গুরুতর এবং মানবিক সংকট আরও বাড়তে পারে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
শবেবরাত উপলক্ষে ফেব্রুয়ারির শুরুতে লম্বা ছুটির সুযোগ

শবেবরাত উপলক্ষে ফেব্রুয়ারির শুরুতে লম্বা ছুটির সুযোগ