“সবচেয়ে কঠিন যুদ্ধ প্রকৃতির সঙ্গে”—সংসদে পানিসম্পদ মন্ত্রী The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

“সবচেয়ে কঠিন যুদ্ধ প্রকৃতির সঙ্গে”—সংসদে পানিসম্পদ মন্ত্রী

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Apr 16, 2026 ইং
“সবচেয়ে কঠিন যুদ্ধ প্রকৃতির সঙ্গে”—সংসদে পানিসম্পদ মন্ত্রী ছবির ক্যাপশন:

দেশ বর্তমানে একাধিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি—এমন মন্তব্য করেছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। তিনি জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশকে তিন ধরনের ‘যুদ্ধ’ মোকাবিলা করতে হচ্ছে, যার মধ্যে সবচেয়ে কঠিন হলো প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ৭১ বিধিতে উপস্থাপিত জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ নোটিশের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেন, একটি যুদ্ধ হচ্ছে আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি, আরেকটি রাজনৈতিক যুদ্ধ, যা মোকাবিলা করে বর্তমান অবস্থানে আসা হয়েছে। তবে সবচেয়ে কঠিন এবং দীর্ঘস্থায়ী চ্যালেঞ্জ হচ্ছে প্রকৃতির সঙ্গে সংগ্রাম।

মন্ত্রী বলেন, নদীর তীরবর্তী এলাকায় বসবাসকারী মানুষই প্রকৃতির এই কঠিন বাস্তবতা সবচেয়ে বেশি অনুভব করেন। নদীভাঙন, বন্যা ও আকস্মিক পানি বৃদ্ধি তাদের জীবনকে প্রতিনিয়ত ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে। বিশেষ করে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সিলেট অঞ্চলে এই সমস্যা অত্যন্ত প্রকট।

সংসদে আলোচনার সময় সিলেট জেলার জকিগঞ্জ ও কানাইঘাট উপজেলার নদীভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ নোটিশ উত্থাপন করা হয়। এ প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, সরকার ইতোমধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে নদীর তীর সংরক্ষণে কার্যক্রম হাতে নিয়েছে।

সিলেট অঞ্চলের নদীগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো সুরমা ও কুশিয়ারা। এই দুই নদীর উৎপত্তি ভারতের বরাক নদী থেকে, যা মণিপুর রাজ্যের পাহাড়ি অঞ্চল থেকে উৎপন্ন হয়ে মিজোরাম ও আসাম হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। বরাক নদী জকিগঞ্জ উপজেলার অমরশিদ এলাকায় প্রবেশ করে দুটি শাখায় বিভক্ত হয়ে সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর সৃষ্টি করেছে।

এই নদীগুলো খরস্রোতা হওয়ায় বর্ষাকালে পাহাড়ি ঢল এবং ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে হঠাৎ পানি বৃদ্ধি পায়। বিশেষ করে ২০২২, ২০২৪ এবং ২০২৫ সালে সিলেট অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, যা স্থানীয় জনগণের জীবন-জীবিকায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলে।

এই প্রেক্ষাপটে সরকার “সুরমা-কুশিয়ারা নদী অববাহিকার উন্নয়ন এবং বন্যা ও সমন্বিত পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা” শীর্ষক একটি প্রকল্প গ্রহণ করেছে। প্রকল্পটি ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে অনুমোদিত হয় এবং এর ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৭৩ কোটি টাকা। প্রকল্পটির বাস্তবায়নকাল নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৮ সাল পর্যন্ত।

এই প্রকল্পের আওতায় জকিগঞ্জ উপজেলায় ১৩টি স্থানে প্রায় ৪.৩৩৫ কিলোমিটার এবং কানাইঘাট উপজেলায় ৪টি স্থানে প্রায় ১.৪৪০ কিলোমিটার নদীর তীর সংরক্ষণ কাজ বাস্তবায়ন করা হবে। মোট প্রায় ৫.৭৭৫ কিলোমিটার এলাকায় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে।

মন্ত্রী জানান, প্রকল্পটির দরপত্র আহ্বান কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে নদীভাঙনের ঝুঁকি অনেকাংশে কমে আসবে এবং স্থানীয় জনগণের বসতবাড়ি, কৃষিজমি ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো সুরক্ষিত থাকবে।

তবে এই প্রকল্প বাস্তবায়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো আন্তর্জাতিক সীমান্ত। যেহেতু নদীগুলোর উৎস ভারতে, তাই এ বিষয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সমন্বয় জরুরি। এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যে বিজিবি ও বিএসএফ-এর মধ্যে ফ্ল্যাগ মিটিং অনুষ্ঠিত হয়েছে। পাশাপাশি যৌথ নদী কমিশন (JRC)-এর মাধ্যমে আলোচনা চলমান রয়েছে।

এছাড়া বাংলাদেশ ও ভারতের জেলা প্রশাসনের পর্যায়েও বৈঠকের প্রস্তুতি চলছে। এসব আলোচনার মাধ্যমে সমন্বিত সিদ্ধান্ত নেওয়া গেলে দ্রুত প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ শুরু করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন মন্ত্রী।

সব মিলিয়ে, সিলেট অঞ্চলের নদীভাঙন ও বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে প্রকৃতির সঙ্গে এই দীর্ঘমেয়াদি ‘যুদ্ধ’ মোকাবিলায় টেকসই পরিকল্পনা ও আন্তঃদেশীয় সহযোগিতাই হবে সফলতার মূল চাবিকাঠি।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
নির্বাচন ও গণভোটে টানা চার দিন বন্ধ থাকবে ব্যাংক

নির্বাচন ও গণভোটে টানা চার দিন বন্ধ থাকবে ব্যাংক