সিঙ্গাপুরে কাকের উপদ্রব ঠেকাতে গুলি, নিহত ১৬ The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

সিঙ্গাপুরে কাকের উপদ্রব ঠেকাতে গুলি, নিহত ১৬

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Apr 3, 2026 ইং
সিঙ্গাপুরে কাকের উপদ্রব ঠেকাতে গুলি, নিহত ১৬ ছবির ক্যাপশন:

কাকের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় নগর পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব মোকাবেলায় কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে Singapore সরকার। এরই অংশ হিসেবে দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় জুরং এলাকায় পরিচালিত এক বিশেষ অভিযানে গুলি করে ১৬টি কাক হত্যা করা হয়েছে।

স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার জুরংয়ের বুলিম অ্যাভিনিউ এলাকায় অবস্থিত একটি পার্কে এই অভিযান চালানো হয়। ঘটনাটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম CNN-এর এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। সেখানে বলা হয়, কাকের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে এই পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে, যা নগর ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

অভিযান চলাকালে একজন প্রশিক্ষিত শুটার আকাশে উড়ে যাওয়া কাকগুলোকে লক্ষ্য করে গুলি চালান। প্রায় ৩০ মিনিটের মধ্যেই তিনি ৬টি কাক শিকার করতে সক্ষম হন। পুরো অভিযানে আরও একজন শুটার অংশ নেন, এবং গণমাধ্যমের উপস্থিতিতেই এই কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

শুটাররা জানিয়েছেন, তীব্র গরমের মধ্যে এ ধরনের অভিযান পরিচালনা করা সহজ নয়। তবে নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী তারা কাজ সম্পন্ন করেন। অভিযানের পুরো সময়জুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয় এবং সাধারণ মানুষের জন্য এলাকা নিয়ন্ত্রিত রাখা হয়।

এই অভিযানের বিষয়ে দেশটির National Parks Board (এনপার্কস) জানায়, নগর এলাকায় কাকের সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় তা জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। কাকের মাধ্যমে আবর্জনা ছড়িয়ে পড়া, শব্দদূষণ এবং কিছু ক্ষেত্রে রোগ বিস্তারের আশঙ্কাও থেকে যায়।

এনপার্কস আরও জানায়, কাকের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে এটি একটি চলমান উদ্যোগের অংশ। পরিস্থিতি বিবেচনায় ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান পরিচালিত হতে পারে। তবে তারা এটাও উল্লেখ করেছে যে, কেবল হত্যা নয়—বিভিন্ন বিকল্প পদ্ধতিও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে, যেমন খাদ্য উৎস নিয়ন্ত্রণ, বাসা অপসারণ এবং সচেতনতা বৃদ্ধি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নগর এলাকায় বন্যপ্রাণীর সংখ্যা বৃদ্ধি একটি সাধারণ বৈশ্বিক সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। দ্রুত নগরায়ন এবং খাদ্যের সহজলভ্যতার কারণে কাকসহ অনেক প্রাণী শহরমুখী হচ্ছে। ফলে তাদের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে পরিকল্পিত পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন হয়ে পড়ে।

তবে এ ধরনের পদক্ষেপ নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা ও সমালোচনাও রয়েছে। প্রাণী অধিকারকর্মীরা অনেক সময় এমন অভিযানকে অমানবিক হিসেবে আখ্যা দিয়ে বিকল্প পদ্ধতির ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান। অন্যদিকে, সরকারি সংস্থাগুলো বলছে—মানুষ ও পরিবেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য।

সিঙ্গাপুরের এই অভিযান আবারও নগর ব্যবস্থাপনায় বন্যপ্রাণী নিয়ন্ত্রণের জটিল বাস্তবতাকে সামনে নিয়ে এসেছে। জনস্বাস্থ্য, পরিবেশের ভারসাম্য এবং প্রাণী কল্যাণ—এই তিনটি বিষয়ের মধ্যে সমন্বয় করেই ভবিষ্যতে নীতি নির্ধারণ করা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ