সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিত করতে চালু করা মিড ডে মিল কর্মসূচিতে মানসম্মত খাবার দেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে দেখা গেছে বিপরীত চিত্র। শিক্ষার্থীদের পাতে পরিবেশন করা হচ্ছে পচা অথবা অপরিপক্ব কলা, নষ্ট ডিম, ফাঙ্গাস ধরা রুটি ও মানহীন অন্যান্য খাবার। কিছু জায়গায় খাবারের ওজন ঠিকমতো না থাকার অভিযোগও পাওয়া গেছে।
২০১৯ সালের ১৫ নভেম্বর থেকে দেশের বিভিন্ন উপজেলায় এই স্কুল ফিডিং কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রথম মেয়াদে ১৫০টি উপজেলার ১৯,৪১৯টি বিদ্যালয়, যার মাধ্যমে ৩১ লাখ ৩০ হাজার শিক্ষার্থী উপকৃত হওয়ার কথা। তবে মাঠে গিয়ে দেখা গেছে, অন্তত ২৫ উপজেলায় কয়েকশ বিদ্যালয়ে নিম্নমানের খাবার বিতরণ হচ্ছে। কিছু বিদ্যালয়ে কাঁচা বা নষ্ট ডিম, ফাঙ্গাসযুক্ত রুটি ও পচা কলা সরবরাহ করা হচ্ছে।
হবিগঞ্জ, নেছারাবাদ, স্বরূপকাঠি, মোহনগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, চাঁদপুর, কুলাউড়া সহ বিভিন্ন উপজেলায় শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। অনেক স্কুলে নির্ধারিত তালিকা অনুযায়ী ডিম, রুটি ও কলা দেওয়া হচ্ছে না। ঠিকাদারদের দায়িত্বহীনতা ও খামখেয়ালিপনার কারণে শিক্ষার্থীরা সঠিক পুষ্টি পাচ্ছে না।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অনিয়মের বিষয়ে সতর্কতা জারি করা হলেও সমস্যা সমাধান হয়নি। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে পচা ও নষ্ট খাবার শিশুর পুষ্টি ও স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ায়।
ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও শিক্ষা বিশ্লেষকরা সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, মিড ডে মিল কর্মসূচিতে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের যথাযথভাবে মনিটরিং করতে হবে এবং শিশুর পুষ্টি ও স্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে মানসম্মত খাবারের ব্যবস্থা করতে হবে।
কসমিক ডেস্ক