বিশ্বব্যাপী খাদ্যপণ্যের দাম আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে বলে সতর্কবার্তা দিয়েছে Food and Agriculture Organization (FAO)। সংস্থাটির সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, মার্চ মাসে বৈশ্বিক খাদ্যমূল্য সূচক উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে ডিসেম্বরের পর সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছেছে।
আরব নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্চ মাসে খাদ্যমূল্য সূচক গড়ে ১২৮.৫ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, যা ফেব্রুয়ারির সংশোধিত সূচকের তুলনায় ২.৪ শতাংশ বেশি। এর ফলে টানা দ্বিতীয় মাসের মতো বিশ্ব খাদ্যদামে ঊর্ধ্বগতি দেখা গেল।
এফএও বিশ্বব্যাপী বাণিজ্য হওয়া বিভিন্ন খাদ্যপণ্যের মূল্য পরিবর্তন বিশ্লেষণ করে এই সূচক তৈরি করে থাকে। সাম্প্রতিক এই বৃদ্ধি বৈশ্বিক বাজারে খাদ্যদ্রব্যের ওপর বাড়তি চাপের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তবে একইসঙ্গে সংস্থাটি কিছুটা আশাবাদী তথ্যও দিয়েছে। ২০২৫ সালের জন্য বিশ্বব্যাপী খাদ্যশস্য উৎপাদনের পূর্বাভাস সামান্য বাড়িয়ে ৩.০৩৬ বিলিয়ন মেট্রিক টনে উন্নীত করা হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় ৫.৮ শতাংশ বেশি হতে পারে। অর্থাৎ উৎপাদন বাড়লেও বাজারে অন্যান্য প্রভাবের কারণে দাম বাড়ছে।
এফএও’র প্রধান অর্থনীতিবিদ Máximo Torero এক বিবৃতিতে বলেন, বৈশ্বিক সংঘাতের কারণে তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় খাদ্যপণ্যের দামও কিছুটা বেড়েছে। তবে পর্যাপ্ত খাদ্যশস্য মজুত থাকায় এই দাম বৃদ্ধি এখনো নিয়ন্ত্রণের বাইরে যায়নি।
তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, যদি বর্তমান সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হয়—বিশেষ করে ৪০ দিনের বেশি সময় ধরে চলতে থাকে—তাহলে উৎপাদন খরচ বাড়ার কারণে কৃষকেরা চাষাবাদ কমিয়ে দিতে পারেন। এতে ভবিষ্যতে খাদ্য উৎপাদন কমে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে, যা সরবরাহ সংকট এবং মূল্যবৃদ্ধির আরও বড় কারণ হতে পারে।
এই পরিস্থিতি এমন এক সময় তৈরি হয়েছে, যখন বিশ্বজুড়ে খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থা ইতোমধ্যেই নানা চাপে রয়েছে। বিশেষ করে ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে বৈশ্বিক খাদ্য সরবরাহ শৃঙ্খলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে বলে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন সংস্থা বারবার সতর্ক করে আসছে।
বিশ্লেষকদের মতে, খাদ্য উৎপাদন বাড়লেও পরিবহন ব্যয়, জ্বালানি মূল্য বৃদ্ধি এবং ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা খাদ্যবাজারকে অস্থির করে তুলছে। ফলে ভবিষ্যতে খাদ্যদাম আরও বাড়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
সব মিলিয়ে, বর্তমান পরিস্থিতিতে বৈশ্বিক খাদ্যবাজার একটি সংবেদনশীল অবস্থায় রয়েছে। উৎপাদন ও সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে হলে সংঘাত কমানো এবং জ্বালানি বাজার স্থিতিশীল রাখা জরুরি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
কসমিক ডেস্ক