মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রভাবে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় বাংলাদেশ সরকার বিকল্প উৎস থেকে তেল আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া এবং কাজাখস্তান থেকে তেল আমদানির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) রাতে জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন তারেক রহমান।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক তেল সরবরাহ ব্যবস্থায় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ফলে প্রচলিত সরবরাহ লাইন কিছুটা ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার বিকল্প উৎস খুঁজে বের করার উদ্যোগ নিয়েছে।
তিনি জানান, ইতোমধ্যে মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া এবং কাজাখস্তান থেকে তেল আমদানির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এই তিনটি দেশের মাধ্যমে জ্বালানি সরবরাহ বৈচিত্র্য আনার চেষ্টা করা হচ্ছে, যাতে কোনো একক উৎসের ওপর নির্ভরশীলতা কমানো যায়।
সরকারের এই উদ্যোগকে জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদি কৌশলের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈশ্বিক বাজারে অস্থিরতা থাকলে বিকল্প উৎস থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যা সরবরাহ সংকট মোকাবিলায় সহায়ক হতে পারে।
নাসিমুল গনি আরও বলেন, জ্বালানি সংকটের প্রভাব সাধারণ মানুষের ওপর যাতে কম পড়ে, সে লক্ষ্যে সরকার ভর্তুকি অব্যাহত রেখেছে। বর্তমান পরিস্থিতি সামাল দিতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সরকার।
বিশ্ববাজারে তেলের দাম ওঠানামা এবং সরবরাহে অনিশ্চয়তা অনেক দেশকেই নতুন করে পরিকল্পনা নিতে বাধ্য করছে। বাংলাদেশও সেই বাস্তবতায় নিজেদের জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনছে।
মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে একাধিক দেশের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার করার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সব মিলিয়ে, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও কাজাখস্তান থেকে তেল আমদানির উদ্যোগ বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এটি ভবিষ্যতে সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতে এবং বৈশ্বিক অস্থিরতার প্রভাব কমাতে সহায়ক হতে পারে।
কসমিক ডেস্ক