দেশে চলমান জ্বালানি তেলের সংকট এবং মূল্যবৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে বিকল্প জ্বালানির দিকে ঝুঁকছেন ব্যক্তিগত গাড়ির মালিকরা। বিশেষ করে সিএনজি ও এলপিজি কনভারশনের প্রতি আগ্রহ বাড়লেও বর্তমানে এলপিজি (লিকুইফাইড পেট্রোলিয়াম গ্যাস) সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়তা পাচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট খাতের বিশ্লেষকদের মতে, এক সময় সিএনজি কনভারশন বেশি জনপ্রিয় থাকলেও এখন প্রায় ৭০ শতাংশ গ্রাহক এলপিজিকে বেছে নিচ্ছেন। এর অন্যতম কারণ হলো ইঞ্জিনের সুরক্ষা এবং ব্যবহারিক সুবিধা। সিএনজির তুলনায় এলপিজি ব্যবহারে ইঞ্জিনের ক্ষয় কম হয় এবং গাড়ি চালানোর অভিজ্ঞতা অকটেনের মতোই স্বাভাবিক থাকে।
বর্তমানে জ্বালানি খরচের দিক থেকেও এলপিজি একটি সাশ্রয়ী বিকল্প হিসেবে দেখা দিচ্ছে। যেখানে প্রতি লিটার অকটেনের দাম প্রায় ১২০ টাকা, সেখানে সমপরিমাণ এলপিজি পাওয়া যাচ্ছে প্রায় ৬২ টাকায়। ফলে গাড়ির পরিচালন ব্যয় ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমে আসছে।
তথ্য অনুযায়ী, অকটেনের তুলনায় সিএনজিতে প্রায় ৭০ শতাংশ এবং এলপিজিতে প্রায় ৪০ শতাংশ পর্যন্ত খরচ সাশ্রয় সম্ভব। বিশেষ করে যারা প্রতিদিন ৫০ থেকে ১০০ কিলোমিটার গাড়ি চালান, তাদের জন্য এই কনভারশন পদ্ধতি দীর্ঘমেয়াদে অত্যন্ত লাভজনক হয়ে উঠছে।
রাজধানীর তেজগাঁওসহ বিভিন্ন এলাকায় মাল্টিব্র্যান্ড ওয়ার্কশপে এখন এলপিজি ও সিএনজি কনভারশন সেবা দেওয়া হচ্ছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো এইচএনএস অটো সলিউশন এবং সাউদার্ন অটোমোবাইলস। এছাড়া সরকারি প্রতিষ্ঠান আরপিজিসিএল-এর মাধ্যমেও তুলনামূলক কম খরচে এই সেবা পাওয়া যাচ্ছে।
এলপিজি কনভারশনে মানভেদে খরচ পড়ছে ৬০ হাজার থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত। অন্যদিকে সিএনজি কনভারশনের খরচ ৭০ হাজার থেকে ৯০ হাজার টাকার মধ্যে। সরকারি ব্যবস্থায় এই খরচ কমে ২৯ হাজার থেকে ৬৯ হাজার টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে। পুরো কনভারশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সময় লাগে মাত্র ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা।
খাত সংশ্লিষ্টরা জানান, দেশে চলমান গাড়ির বড় একটি অংশই টয়োটা ব্র্যান্ডের, যা সহজেই এলপিজি ও সিএনজি উভয় ব্যবস্থায় রূপান্তরযোগ্য। সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানি সাশ্রয়ের প্রবণতা আগের তুলনায় ১০ থেকে ১৫ শতাংশ বেড়েছে।
তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, বাজারে অনেক মানহীন সিলিন্ডার ও যন্ত্রাংশ ব্যবহৃত হচ্ছে, যা নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। তাই অনুমোদিত ও বিশ্বস্ত প্রতিষ্ঠান থেকে কনভারশন করানো এবং মানসম্মত যন্ত্রাংশ ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
তারা আরও বলেন, স্বল্পমেয়াদী সাশ্রয়ের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ উপকরণ ব্যবহার করলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে। তাই নিরাপত্তা নিশ্চিত করে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনায় এই প্রযুক্তি ব্যবহার করাই হবে সবচেয়ে যুক্তিযুক্ত সিদ্ধান্ত।
কসমিক ডেস্ক