মাদারীপুরে হামের প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। হামে আক্রান্ত হয়ে এক শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় জেলাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। সোমবার (৩০ মার্চ) রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই শিশুর মৃত্যু হয়।
নিহত শিশুটির নাম আদিবা। তার বয়স ছিল মাত্র তিন মাস ১৫ দিন। সে সদর উপজেলার খোয়াজপুর ইউনিয়নের মধ্যচর এলাকার বাসিন্দা আব্দুর রহমানের মেয়ে।
এই ঘটনার পর অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ ও দুশ্চিন্তা আরও বেড়েছে। বর্তমানে মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে ১১ শিশু ভর্তি রয়েছে। তাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকরা।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত সাত দিনে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ১৪ শিশু ভর্তি হয়েছিল। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও দুই শিশু ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছে ১১ শিশু।
হাসপাতালে ভর্তি শিশুদের অভিভাবকরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সদর উপজেলার দুখধালী ইউনিয়নের বোয়ালি এলাকার বাসিন্দা মোস্তাকিন বিল্লাল বলেন, তার ৯ মাস বয়সী ছেলে মোস্তাকুন নবীকে নিয়ে তিনি হাসপাতালে এসেছেন। চারপাশে যেভাবে হাম ছড়িয়ে পড়ছে, তাতে তারা চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন এবং সরকারের সহায়তা কামনা করেছেন।
একইভাবে সদর উপজেলার হাউসদি এলাকার বাসিন্দা ফাতেমা আক্তার জানান, তার মেয়ে পাঁচ দিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে, কিন্তু এখনো সুস্থ হয়নি। তিনি বলেন, পরিস্থিতি তাদের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
মাদারীপুর জেলা হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. জহিরুল ইসলাম খান বলেন, বর্তমানে বিশ্বব্যাপী হামের প্রাদুর্ভাব দেখা যাচ্ছে। এ অবস্থায় সচেতনতা বৃদ্ধি অত্যন্ত জরুরি। কোনো শিশুর মধ্যে উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. অখিল সরকার জানান, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক রোগ। এজন্য আক্রান্ত শিশুদের জন্য আলাদা আইসোলেশন ইউনিট চালু করা হয়েছে এবং স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, হামের লক্ষণ হিসেবে সাধারণত জ্বর, শরীরে লালচে ফুসকুড়ি, কাশি, চোখ লাল হয়ে যাওয়া এবং দুর্বলতা দেখা দেয়। এসব উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হামের টিকা গ্রহণ এবং ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখাই এই রোগ প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়। একই সঙ্গে আক্রান্তদের থেকে সুস্থ শিশুদের দূরে রাখা এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ওপরও গুরুত্বারোপ করেছেন তারা।
এই পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য বিভাগকে আরও সক্রিয় হয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং টিকাদান কার্যক্রম জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
কসমিক ডেস্ক