বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতার মধ্যেই অভ্যন্তরীণ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। কাজাখস্তান থেকে ১ লাখ টন পরিশোধিত ডিজেল আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন করেছে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।
মঙ্গলবার অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত সমর্থনের কারণে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার জটিলতা এড়িয়ে এই আমদানির পথ সুগম হয়েছে।
জানা গেছে, গত ১১ মার্চ বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে জ্বালানি আমদানিতে অস্থায়ী ছাড়ের অনুরোধ জানানো হয়। পরবর্তীতে ওয়াশিংটন ‘কেস টু কেস’ ভিত্তিতে ইতিবাচক সাড়া দেওয়ায় আন্তর্জাতিক বিধি মেনে এই তেল আমদানি সম্ভব হচ্ছে।
এই চুক্তির আওতায় ExxonMobil কাজাখস্তান থেকে প্রতি ব্যারেল ৭৬ দশমিক ৪১ ডলার দরে ডিজেল সরবরাহ করবে, যা বর্তমান বৈশ্বিক বাজারদরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।
জ্বালানি বিভাগের একাধিক সূত্র জানায়, এই সরবরাহ ব্যবস্থায় কিছু ক্ষেত্রে রাশিয়ার সম্পৃক্ততা থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের অনুমোদিত কাঠামোর মধ্যে থাকায় তা আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করছে না।
এদিকে, আরও কম দামে ডিজেল সরবরাহের কিছু প্রস্তাব থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের আপত্তির কারণে সেগুলো গ্রহণ করা হয়নি। সরকার আন্তর্জাতিক নীতিমালা মেনে নিরাপদ ও গ্রহণযোগ্য সরবরাহকারী নির্বাচনেই গুরুত্ব দিচ্ছে।
Bangladesh Petroleum Corporation (বিপিসি) চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান জানিয়েছেন, দ্রুতই ‘নোটিফিকেশন অব অ্যাওয়ার্ড’ জারি করা হবে। চুক্তি স্বাক্ষরের ১৫ দিনের মধ্যেই কম সালফারযুক্ত উচ্চমানের ডিজেল দেশে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এর পাশাপাশি, ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়া থেকে জ্বালানি আমদানির আরও দুটি প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। তবে বিভিন্ন অসংগতির কারণে কয়েকটি প্রস্তাব বাতিল করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
সরকার জ্বালানি সরবরাহে স্বচ্ছতা ও প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করতে নতুন সরবরাহকারী তালিকাভুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে। ইতোমধ্যে অন্তত ২০টি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে জ্বালানি সরবরাহে আগ্রহ দেখিয়েছে।
বর্তমানে অপরিশোধিত তেলের ক্ষেত্রে Saudi Aramco এবং Abu Dhabi National Oil Company একমাত্র তালিকাভুক্ত সরবরাহকারী। আর পরিশোধিত জ্বালানির জন্য ৯টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে।
এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লেও রমজান ও মূল্যস্ফীতির চাপ বিবেচনায় এপ্রিল মাসে পেট্রোল, ডিজেল ও অকটেনের দাম অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এতে পরিবহন ব্যয় ও নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
কসমিক ডেস্ক