সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে ফুল দিতে গিয়ে মডেল মোসা সিমু আক্তার বৃষ্টি ও রফিকুল ইসলাম ওরফে দুর্জয়কে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় আদালত রিমান্ড দিয়েছেন। শুক্রবার (২৭ মার্চ) ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তাজুল ইসলাম সোহাগ রিমান্ডের এ আদেশ দেন। মডেল মোসা ওরফে সিমু বৃষ্টিকে দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়েছে। অপর আসামি রফিকুল ইসলাম ওরফে দুর্জয়কে তিন দিনের রিমান্ড দেওয়া হয়েছে।
আদালতে আসামিদের হাজির করা হয়। এরপর আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক মো. শহিদুজ্জামান তাদের পাঁচ দিন করে রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। আসামিদের পক্ষে মো. খায়ের উদ্দিন শিকদার রিমান্ড বাতিল করে জামিনের আবেদন করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত মোসা বৃষ্টির জামিন নামঞ্জুর করেন এবং একই সঙ্গে দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রফিকুল ইসলামের তিন দিনের রিমান্ডও একইভাবে মঞ্জুর হয়।
ঘটনার পটভূমি অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) মহান স্বাধীনতা দিবসের দিন জাতীয় স্মৃতিসৌধে ফুল দিতে গেলে তারা আটক হন। পরে তাদের বিরুদ্ধে আশুলিয়া থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করা হয়।
মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, জাতীয় স্মৃতিসৌধের মূল বেদির সামনে কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও মোট ২২-২৫ জন নেতা-কর্মী দেশীয় আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ঘটানোর উদ্দেশ্যে বিভিন্ন ধরনের স্লোগান দেন। তাদের হাতে ছিলেন শেখ হাসিনা ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি সংবলিত প্ল্যাকার্ড। তারা ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’সহ নানা উত্তেজনাপূর্ণ স্লোগান দেয়। মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, এই কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দেশের অভ্যন্তরে উত্তেজক পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করা হয়েছিল।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, এই মামলায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কার্যক্রমের তদন্ত এবং প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করতে রিমান্ডের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। রিমান্ডের মাধ্যমে পুলিশ মামলার তথ্য সংগ্রহ এবং ঘটনার সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য ব্যক্তিদের খুঁজে বের করার পরিকল্পনা নিয়েছে।
এই ঘটনায় নিরাপত্তা বাহিনী এবং স্থানীয় প্রশাসন যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী, রিমান্ডকালে আসামিদের আইনানুগভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। এছাড়া মামলার তদন্তের অগ্রগতি নিয়মিত আদালতকে জানাতে হবে।
এই ঘটনা মহান স্বাধীনতা দিবসে ঘটে যাওয়ায় তা সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে আলোচিত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জাতীয় স্মৃতিসৌধ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় ও প্রতীকী স্থান। সেখানে আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখা প্রয়োজন।
কসমিক ডেস্ক