জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলায় একটি মর্মান্তিক ঘটনার পর সাবেক এক ইউপি সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযোগ রয়েছে, তিনি ১২ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণ করেছেন। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (১ এপ্রিল) বিকেলে মেলান্দহ উপজেলার ঘোষেরপাড়া ইউনিয়নের বীর সগুনা এলাকা থেকে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তি মাসুদুর রহমান মাসুদ, যিনি কড়ইচড়া ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য ছিলেন।
ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, গত শনিবার বিকেলে শিশুটির মা তাকে বাসায় একা রেখে আত্মীয়কে এগিয়ে দিতে বাইরে যান। পরে তিনি অন্য একটি আত্মীয়ের বাড়িতে যান। এই সুযোগে প্রতিবেশী হিসেবে পরিচিত অভিযুক্ত ব্যক্তি শিশুটিকে একা পেয়ে তার ওপর যৌন নির্যাতন চালান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ঘটনার পর শিশুটিকে ভয়ভীতি দেখানো হয় যাতে সে বিষয়টি কাউকে না জানায়। তবে শিশুটি পরবর্তীতে কান্নাজড়িত অবস্থায় তার মায়ের কাছে পুরো ঘটনা খুলে বলে।
ঘটনার পরপরই শিশুটির মা বাদী হয়ে মাদারগঞ্জ মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বসহকারে নিয়ে তদন্ত শুরু করে এবং অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চালায়।
অবশেষে বুধবার অভিযুক্তকে তার আত্মীয়ের বাড়ি থেকে আটক করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, তাকে আইনের আওতায় এনে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। তারা দ্রুত বিচার এবং কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। অনেকেই মনে করছেন, এ ধরনের ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা না নেওয়া হলে সমাজে অপরাধ প্রবণতা কমানো কঠিন হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। পরিবার, সমাজ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। একই সঙ্গে ভুক্তভোগী শিশুর শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করাও জরুরি।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শিশু নির্যাতনের মতো স্পর্শকাতর ঘটনায় তারা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করে থাকে। তদন্ত শেষে দোষ প্রমাণিত হলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই ঘটনা আবারও সমাজে শিশু সুরক্ষার বিষয়টি সামনে নিয়ে এসেছে। সচেতনতা বৃদ্ধি, কঠোর আইন প্রয়োগ এবং সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার মাধ্যমে এ ধরনের অপরাধ কমিয়ে আনার ওপর গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে।