‘মরা’ ইভিএম নিয়ে বিপাকে ইসি, ১,৫৯৯ মেশিনের হদিস নেই The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

‘মরা’ ইভিএম নিয়ে বিপাকে ইসি, ১,৫৯৯ মেশিনের হদিস নেই

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Mar 27, 2026 ইং
‘মরা’ ইভিএম নিয়ে বিপাকে ইসি, ১,৫৯৯ মেশিনের হদিস নেই ছবির ক্যাপশন:

বাংলাদেশের নির্বাচন ব্যবস্থায় এক সময় আলোচিত প্রযুক্তি ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) এখন পরিণত হয়েছে বড় ধরনের প্রশাসনিক ও আর্থিক চ্যালেঞ্জে। Bangladesh Election Commission বর্তমানে প্রায় দেড় লাখ ইভিএমের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে হিমশিম খাচ্ছে, এর মধ্যে ১,৫৯৯টি মেশিনের কোনো হদিসই মিলছে না।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ইভিএম ক্রয় করা হলেও বাস্তবে খুব সীমিত পরিসরে এসব যন্ত্র ব্যবহার করা হয়। প্রকল্পের ডিপিপিতে সংরক্ষণ ব্যবস্থার সুস্পষ্ট পরিকল্পনা না থাকায় শুরু থেকেই ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতা ছিল বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

বর্তমানে ইসির হিসাব অনুযায়ী মোট ১ লাখ ৪৮ হাজার ৪০১টি ইভিএম বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে রয়েছে। এর মধ্যে Bangladesh Machine Tools Factory (বিএমটিএফ)-এর গুদামে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক মেশিন রাখা হয়েছে। তবে ১,৫৯৯টি মেশিনের কোনো অবস্থান নিশ্চিত করা যায়নি, যার আর্থিক মূল্য প্রায় ৩৭ কোটিরও বেশি টাকা।

ইসি ইতোমধ্যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, ভবিষ্যতের কোনো নির্বাচনেই ইভিএম ব্যবহার করা হবে না। নির্বাচন কমিশনারদের মতে, রাজনৈতিক দল ও সাধারণ জনগণের আস্থা না থাকায় এই প্রযুক্তি থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বর্তমানে ইভিএমের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে একটি কমিটি কাজ করছে, যেখানে Implementation Monitoring and Evaluation Division-সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা রয়েছেন। তবে অডিট আপত্তি, চলমান তদন্ত, আইনি জটিলতা এবং প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার কারণে দ্রুত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না।

অন্যদিকে, ইভিএম সংরক্ষণে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় হচ্ছে। বিএমটিএফ গুদাম ভাড়া বাবদ প্রায় ৭০ কোটির বেশি টাকা দাবি করেছে। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন স্থানে ভাড়া করা গুদামের জন্য প্রতি মাসে ৩০ লাখ টাকার বেশি ব্যয় হচ্ছে, যেখানে প্রয়োজনীয় সংরক্ষণ সুবিধাও নেই।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকায় বেশিরভাগ ইভিএমই এখন অকার্যকর হয়ে পড়েছে। নিয়ম অনুযায়ী এসব যন্ত্রের ব্যাটারি নিয়মিত চার্জ দেওয়া প্রয়োজন হলেও তা করা হয়নি। ফলে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর এসব মেশিন কার্যত ‘মরা’ সম্পদে পরিণত হয়েছে।

সুশাসন বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ভবিষ্যতে এমন ব্যয়বহুল প্রকল্প গ্রহণের আগে বাস্তবতা যাচাই ও পরিকল্পনা নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে এই প্রকল্পের সঙ্গে জড়িত দায়ীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

সব মিলিয়ে, অচল ইভিএম, নিখোঁজ যন্ত্র এবং বাড়তে থাকা আর্থিক দায়—এই তিনের সমন্বয়ে নির্বাচন কমিশনের জন্য এটি একটি জটিল ও দীর্ঘমেয়াদি প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
রূপগঞ্জে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে প্রাণ গেল নেতার

রূপগঞ্জে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে প্রাণ গেল নেতার