মালিকানা সংকটে সাবেক এমপিদের গাড়ি, বিপাকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

মালিকানা সংকটে সাবেক এমপিদের গাড়ি, বিপাকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jan 29, 2026 ইং
মালিকানা সংকটে সাবেক এমপিদের গাড়ি, বিপাকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ছবির ক্যাপশন:
ad728

সাবেক সংসদ সদস্যদের শুল্কমুক্ত সুবিধায় আমদানি করা ৩০টি গাড়ি নিয়ে বড় ধরনের আইনি জটিলতায় পড়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। গাড়িগুলোর মালিকানা স্পষ্ট না হওয়ায় বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) সেগুলোর রেজিস্ট্রেশন দিতে অপারগতা জানিয়েছে। ফলে এনবিআরের নেওয়া আগের সিদ্ধান্ত বাতিল বা সংশোধনের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

প্রচলিত কাস্টমস আইন অনুযায়ী শুল্ক ও কর পরিশোধ ছাড়া কোনো পণ্য খালাসের সুযোগ নেই। অথচ সাবেক সংসদ সদস্যদের আমদানি করা এসব গাড়ি সম্পূর্ণ শুল্ক পরিশোধ ছাড়াই একটি আদেশের মাধ্যমে সরকারের পরিবহন পুলে হস্তান্তর করে এনবিআর। এ ক্ষেত্রে শুধু এয়ারফেইজ চার্জ বাবদ প্রায় ১ কোটি ৯২ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গাড়িগুলোর প্রতিটির শুল্কযোগ্য মূল্য অনুযায়ী যেখানে ৪ থেকে ৮ কোটি টাকা পর্যন্ত শুল্ক ও কর প্রযোজ্য, সেখানে এত কম অর্থে হস্তান্তর নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সংসদ ভেঙে গেলে সংসদ সদস্যদের শুল্কমুক্ত সুবিধাও বাতিল হয়ে যায়। ফলে এসব গাড়ি সাধারণ আমদানিকারকের নিয়মে সম্পূর্ণ শুল্ক কর পরিশোধ সাপেক্ষে খালাসের বাধ্যবাধকতা তৈরি হয়। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আমদানিকারকেরা শুল্ক পরিশোধ না করায় চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস গাড়িগুলো নিলামে তোলে। একবার নিলামে প্রত্যাশিত দর না পাওয়ায় বিকল্প ব্যবস্থার জন্য এনবিআরের মতামত চাওয়া হলে সংস্থাটি গাড়িগুলো পরিবহন পুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

গত ১২ নভেম্বর এনবিআর দুইটি শর্তে গাড়িগুলো পরিবহন পুলে হস্তান্তর করে। শর্ত অনুযায়ী, ভবিষ্যতে আমদানিকারক চাইলে নির্ধারিত শুল্ক কর পরিশোধ করে গাড়ি খালাস নিতে পারবেন এবং সে ক্ষেত্রে গাড়িগুলো পরিবহন পুল থেকে কাস্টম কর্তৃপক্ষকে ফেরত দিতে হবে। তবে এই শর্তই মূলত মালিকানা জটিলতার জন্ম দিয়েছে।

বিআরটিএ স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে, মালিকানা নির্ধারিত না হলে কোনো গাড়ির রেজিস্ট্রেশন দেওয়া সম্ভব নয়। এ অবস্থায় জনপ্রশাসন সচিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এনবিআরের আগের আদেশ বাতিল বা সংশোধন করে গাড়ির মালিকানা নিশ্চিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রয়োজনে বিধি অনুযায়ী রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্তির বিষয়টিও আলোচনায় আসে। তবে আইন অনুযায়ী চোরাচালান বা নিষিদ্ধ পণ্য ছাড়া বাজেয়াপ্তের সুযোগ না থাকায় এনবিআর সেই পথেও যেতে পারছে না।

এ পরিস্থিতিতে এনবিআর নতুন করে আইনি বৈধতা দিতে আইন সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে। সংস্থাটির একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, উপদেষ্টা পরিষদের অনুমোদন পেলে নতুন আদেশের মাধ্যমে বিষয়টি বৈধ করার চেষ্টা করা হবে। তবে কর্মকর্তাদেরই একাংশের মতে, একজনের আমদানি করা গাড়ি অন্য সংস্থাকে হস্তান্তরের বিষয়টি আইনগতভাবে টেকসই নয়।

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস সূত্র জানায়, আমদানি করা মোট ৩২টি গাড়ির মধ্যে একটি নিয়ে হাইকোর্টে রিট মামলা বিচারাধীন রয়েছে। আরেকটি গাড়ি শুল্ক কর পরিশোধ করে খালাস নেওয়া হয়েছে। বাকি ৩০টি গাড়িই বর্তমানে পরিবহন পুলে রয়েছে, যেগুলো নিয়ে এই জটিলতা তৈরি হয়েছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
গাজা ইস্যুতে নেতানিয়াহুকে অপহরণের আহ্বান পাকিস্তানের প্রতিরক

গাজা ইস্যুতে নেতানিয়াহুকে অপহরণের আহ্বান পাকিস্তানের প্রতিরক