সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে আলোচিত এক শিশু হত্যা মামলায় দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকা তিন আসামিকে কৌশলে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযানে তারা সুনামগঞ্জের হাওর এলাকায় কৃষক সেজে অবস্থান করছিলেন বলে জানা গেছে।
ঘটনাটি Shahjadpur থানার অধীনে সংঘটিত একটি চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে। গত ১৬ এপ্রিল ঘটে যাওয়া ওই ঘটনায় ৫ বছর বয়সী শিশু হৃদয়ের মৃত্যু হয়। নিহত শিশু হৃদয় স্থানীয় ফারুক সরদারের ছেলে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সঙ্গে জড়িত তিন আসামি দীর্ঘদিন ধরে আত্মগোপনে ছিলেন। পরে তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় তাদের অবস্থান শনাক্ত করে পুলিশ জানতে পারে তারা সুনামগঞ্জের হাওর অঞ্চলে অবস্থান করছে।
এরপর বৃহস্পতিবার একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে Sunamganj Haor এলাকা থেকে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানে অংশ নেয় শাহজাদপুর থানার পুলিশ সদস্যরা, যারা স্থানীয় কৃষকের বেশে ধানক্ষেতে কাজ করার ছলে আসামিদের শনাক্ত করেন।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন গালা ইউনিয়নের মার্জান গ্রামের হাতেম সরদারের দুই ছেলে পেশকার সরদার ও হামেদ সরদার এবং হামেদ সরদারের শ্যালক লাল মিয়া।
পুলিশ জানায়, ঘটনার দিন টয়লেট নির্মাণকে কেন্দ্র করে পারিবারিক বিরোধের জেরে প্রথমে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে ধারালো হাঁসুয়ার আঘাতে শিশু হৃদয়ের মৃত্যু হয় বলে অভিযোগ ওঠে।
শাহজাদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা Saiful Islam জানান, ঘটনার পরপরই আসামিরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায় এবং বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপনে থাকে। পরে তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে তাদের অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়।
তিনি আরও জানান, অভিযানে পুলিশের একটি দল কৃষকের ছদ্মবেশে হাওর এলাকায় গিয়ে আসামিদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে। ধান কাটার ভানেই তারা আসামিদের কাছে পৌঁছে যায় এবং পরে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারের পর আসামিদের আদালতে হাজির করা হলে দুইজন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। তারা ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে।
জবানবন্দিতে একজন আসামি দাবি করেন, মূলত ছোট ভাইকে লক্ষ্য করে আঘাত করা হয়েছিল, কিন্তু সেটি ঘুরে গিয়ে শিশুটির ওপর পড়ে যায়, যার ফলে তার মৃত্যু হয়।
পুলিশ বলছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ ও পুরো ঘটনা বিস্তারিতভাবে তদন্ত করা হচ্ছে। একই সঙ্গে মামলার বাকি আসামিদের অবস্থান শনাক্তে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, এমন নির্মম ঘটনার পর পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। শিশু হত্যার ঘটনায় ন্যায়বিচার নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন তারা।
অন্যদিকে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, অপরাধী যেখানেই আত্মগোপন করুক না কেন, প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তৎপরতার মাধ্যমে তাদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হচ্ছে।
কসমিক ডেস্ক