পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে নেত্রকোনার আটপাড়া উপজেলার শুনই গ্রামে প্রবাসীদের উদ্যোগে অসহায় মানুষের মাঝে ঈদসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। প্রবাসে কর্মরত গ্রামের তরুণ ও রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের আর্থিক সহায়তায় সোমবার (১৬ মার্চ) শতাধিক দরিদ্র পরিবারের মাঝে এসব উপহার সামগ্রী তুলে দেওয়া হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গ্রামের প্রবাসীরা ২০২১ সাল থেকে নিয়মিতভাবে এই মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন।
প্রতি বছর ঈদের আগে তারা গ্রামের অসচ্ছল ও দরিদ্র পরিবারগুলোর জন্য খাদ্যসামগ্রী ও প্রয়োজনীয় উপহার সংগ্রহ করে বিতরণ করেন।
এর মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে, গ্রামের কোনো পরিবার যেন ঈদের আনন্দ থেকে বঞ্চিত না থাকে।
উপহার পেয়ে স্থানীয় অসহায় মানুষদের মধ্যে আনন্দ ও স্বস্তি দেখা গেছে।
উপকারভোগীদের একজন জানান, তারা অনেকেই দিনমজুর হিসেবে কাজ করেন এবং সংসার চালাতেই হিমশিম খেতে হয়।
তিনি বলেন, ঈদের সময় নতুন কাপড় বা খাবারের আয়োজন করা অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে।
এই অবস্থায় প্রবাসীদের দেওয়া ঈদ উপহার তাদের জন্য বড় সহায়তা হয়ে আসে।
তিনি প্রবাসীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, এই উদ্যোগ গ্রামের দরিদ্র মানুষের জন্য অনেক বড় সহমর্মিতার উদাহরণ।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জাহিন তালুকদার অপু জানান, প্রবাসে থাকলেও তারা সব সময়ই নিজেদের গ্রামের মানুষের কথা মনে রাখেন।
তিনি বলেন, গ্রামের অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর জন্যই তারা প্রতি ঈদের আগে এই উদ্যোগ গ্রহণ করেন।
প্রবাসে থাকা অনেকেই নিজেদের উপার্জনের একটি অংশ এই মানবিক কাজে ব্যয় করেন বলে জানান তিনি।
স্থানীয় বাসিন্দা শরীফ হোসেন বলেন, প্রবাসীদের এই উদ্যোগ গ্রামের মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি ও সহমর্মিতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে।
তিনি বলেন, এই উদ্যোগের কারণে গ্রামের অনেক দরিদ্র পরিবার ঈদের আগে কিছুটা স্বস্তি পায়।
প্রতি বছরই এই উদ্যোগের জন্য গ্রামের মানুষ অপেক্ষা করে থাকে বলে তিনি জানান।
এদিকে প্রবাসী উদ্যোক্তা মো. আল আমিন বলেন, যদিও তারা দেশের বাইরে অবস্থান করছেন, তবে তাদের মন পড়ে থাকে নিজ গ্রামের মানুষের কাছে।
তিনি বলেন, ঈদের মতো আনন্দঘন সময় সবার সঙ্গে ভাগাভাগি করার উদ্দেশ্যেই এই ছোট উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতেও গ্রামের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এই কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হবে।
স্থানীয়রা আশা প্রকাশ করেছেন, প্রবাসীদের এই মানবিক উদ্যোগ আগামী দিনগুলোতেও অব্যাহত থাকবে এবং আরও বেশি মানুষ এর মাধ্যমে উপকৃত হবে।
এই ধরনের উদ্যোগ গ্রামের সামাজিক বন্ধনকে আরও দৃঢ় করে এবং মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সহমর্মিতা ও সহযোগিতার মনোভাব বৃদ্ধি করে বলেও মনে করেন তারা।
কসমিক ডেস্ক