আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং সময়সূচির বিপর্যয় এড়াতে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ঢাকাগামী ৯টি আন্তঃনগর ট্রেনের ঢাকা বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশনে যাত্রাবিরতি সাময়িকভাবে বাতিল করা হয়েছে।
রেলওয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই সিদ্ধান্ত আজ থেকে কার্যকর হয়েছে এবং ঈদের আগের দিন পর্যন্ত তা বহাল থাকবে। রাজধানীর রেল ভবনে ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বিশেষ ট্রেনযাত্রার প্রস্তুতিমূলক এক সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সভায় জানানো হয়, ঈদের সময় যাত্রীচাপ অনেক বেড়ে যায়। এতে ট্রেনের সময়সূচি ঠিক রাখা কঠিন হয়ে পড়ে এবং প্রায়ই শিডিউল বিপর্যয় দেখা দেয়। এসব সমস্যা এড়াতে নির্দিষ্ট কয়েকটি আন্তঃনগর ট্রেনের ঢাকা বিমানবন্দর স্টেশনে যাত্রাবিরতি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এই সিদ্ধান্তের আওতায় যে ট্রেনগুলো ঢাকা বিমানবন্দর স্টেশনে থামবে না সেগুলো হলো—একতা এক্সপ্রেস, দ্রুতযান এক্সপ্রেস, পঞ্চগড় এক্সপ্রেস, নীলসাগর এক্সপ্রেস, কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস, লালমনি এক্সপ্রেস, রংপুর এক্সপ্রেস, চিলাহাটি এক্সপ্রেস এবং বুড়িমারী এক্সপ্রেস। আজ থেকে ঈদের আগের দিন পর্যন্ত এসব ট্রেন ঢাকা বিমানবন্দর স্টেশনে কোনো যাত্রাবিরতি দেবে না।
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, বিমানবন্দর স্টেশন থেকে ঢাকাগামী কিংবা ঢাকা স্টেশন থেকে বিমানবন্দরগামী কোনো আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিটও এই সময়ের মধ্যে দেওয়া হবে না। অর্থাৎ যাত্রীদের সরাসরি ঢাকা রেলওয়ে স্টেশন থেকেই ট্রেনে উঠতে হবে।
এদিকে কিছু ট্রেনের যাত্রা শুরুর ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। সুন্দরবন এক্সপ্রেস, মধুমতি এক্সপ্রেস, বেনাপোল এক্সপ্রেস, জাহানাবাদ এক্সপ্রেস, রূপসী বাংলা এক্সপ্রেস এবং নকশীকাঁথা কমিউটার ট্রেন ঢাকা রেলওয়ে স্টেশনের শহরতলি প্ল্যাটফর্ম থেকে যাত্রা শুরু করবে।
ঈদ উপলক্ষে বাড়তি যাত্রীচাপ সামাল দিতে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করেছে। বিনা টিকিটের যাত্রীদের স্টেশনে প্রবেশ রোধ করতে ঢাকা, বিমানবন্দর, জয়দেবপুর, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, সিলেট, রাজশাহী এবং খুলনাসহ দেশের বড় বড় স্টেশনগুলোতে কঠোর নজরদারি চালানো হচ্ছে।
রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, টিকিটবিহীন যাত্রীদের প্রবেশ ঠেকাতে সার্বক্ষণিক প্রহরার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ কাজে জিআরপি, আরএনবি, বিজিবি, র্যাব এবং স্থানীয় পুলিশ একযোগে দায়িত্ব পালন করছে।
এর পাশাপাশি সম্ভাব্য নাশকতা প্রতিরোধে চলন্ত ট্রেন, স্টেশন এলাকা এবং রেললাইনে নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে। আরএনবি ও জিআরপির সদস্যদের পাশাপাশি র্যাব, বিজিবি এবং স্থানীয় পুলিশের সমন্বয়ে যেকোনো নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড কঠোরভাবে দমন করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, ঈদ উপলক্ষে বিশেষ ব্যবস্থার অংশ হিসেবে ঈদের আগে ১০ দিন এবং ঈদের পরের ১০ দিন ট্রেনে কোনো সেলুনকার সংযোজন করা হবে না। এতে ট্রেন পরিচালনায় অতিরিক্ত চাপ কমবে এবং নিয়মিত যাত্রীসেবায় বিঘ্ন ঘটবে না বলে আশা করা হচ্ছে।
রেলওয়ের এই পদক্ষেপের ফলে ঈদের সময় ট্রেনের সময়সূচি ঠিক রাখা এবং যাত্রীসেবাকে আরও শৃঙ্খলাবদ্ধ করা সহজ হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
কসমিক ডেস্ক