পার্বত্য চট্টগ্রামে সরকারি কর্মকর্তাদের সমন্বিত উন্নয়ন কাজের নির্দেশ The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

পার্বত্য চট্টগ্রামে সরকারি কর্মকর্তাদের সমন্বিত উন্নয়ন কাজের নির্দেশ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Mar 1, 2026 ইং
পার্বত্য চট্টগ্রামে সরকারি কর্মকর্তাদের সমন্বিত উন্নয়ন কাজের নির্দেশ ছবির ক্যাপশন:

রাঙামাটিতে অনুষ্ঠিত একটি মতবিনিময় সভায় পার্বত্যমন্ত্রী দীপেন দেওয়ান পার্বত্য অঞ্চলে বৈষম্যহীন এবং সুষম উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকারি কর্মকর্তাদের কার্যক্রম ত্বরান্বিত করার নির্দেশ দিয়েছেন। সভাটি রবিবার (১ মার্চ) রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়।

মন্ত্রী বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের সকল খাত—শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি এবং অর্থনীতি—সমন্বিতভাবে গুরুত্ব পেলে কেবল সেই অঞ্চলের উন্নয়ন কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় পৌঁছানো সম্ভব হবে। তিনি আরও বলেন, “শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে একত্রিতভাবে সমন্বয় করার মাধ্যমে পার্বত্য অঞ্চল দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীল উন্নয়নের পথে এগোতে পারবে।”

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও নীতিমালার আলোকে জেলার বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করা হবে বলেও মন্ত্রী উল্লেখ করেন। শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উপর গুরুত্বারোপ করেন এবং বলেন, “পার্বত্য অঞ্চলে উন্নয়নের পূর্বশর্ত হচ্ছে সব সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বজায় রাখা। সকল পক্ষকে এতে এগিয়ে আসতে হবে।”

মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) অনুপ কুমার চাকমা, রাঙামাটি রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ নাজমুল হক, জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী, পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিবসহ জেলার সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের প্রধানরা।

সভা সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে শুরু হয়। কর্মকর্তারা তাদের দপ্তরের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এবং নতুন প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেন। এছাড়াও জেলা ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সাথে আলাপ-আলোচনা করে উন্নয়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে পরামর্শ নেওয়া হয়। মন্ত্রী এই অংশগ্রহণমূলক পদ্ধতির মাধ্যমে স্থানীয় জনগণ ও কর্মকর্তাদের মধ্যে সংলাপ এবং সমন্বয় বৃদ্ধির উপর গুরুত্বারোপ করেন।

মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান বলেন, “শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন ছাড়া দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাই সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প ও কর্মসূচি যেন বাস্তব সমস্যার সমাধান করে তা নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া কৃষি ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা সহায়তার মাধ্যমে স্থানীয় অর্থনীতির ভিত্তি শক্ত করতে হবে।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, পার্বত্য অঞ্চলে সকল উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে বৈষম্য বা অনুপাতহীনতা থাকা চলবে না। সরকারি কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে যাতে তারা সকল সম্প্রদায়ের মানুষদের মধ্যে সমানভাবে সুযোগ এবং সুবিধা পৌঁছে দিতে পারেন।

সভায় উপস্থিত অন্যান্য কর্মকর্তারা তাদের দপ্তরের কাজের অগ্রগতি তুলে ধরেন এবং স্থানীয় চাহিদা অনুযায়ী নতুন পরিকল্পনার প্রস্তাব দেন। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা রাঙামাটির উন্নয়নে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণের পরামর্শ দেন। মন্ত্রী আশ্বাস দেন যে, এই পরামর্শগুলো গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা হবে।

সভা শেষে মন্ত্রী সাংবাদিকদের জানান, পার্বত্য অঞ্চলের উন্নয়নের জন্য ১৮০ দিনের বিশেষ কর্মপরিকল্পনা সরকার ঘোষিত রয়েছে। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সরকারি কর্মকর্তা ও স্থানীয় জনগণকে মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। তিনি বলেন, “এই কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে পার্বত্য অঞ্চলে স্থিতিশীল ও সুষম উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।”


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
কিশোরগঞ্জে ভোটের সময় স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থককে কুপিয়ে জখম

কিশোরগঞ্জে ভোটের সময় স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থককে কুপিয়ে জখম