ওয়াশিংটন-তেহরান উত্তেজনা কমাতে সংলাপ চায় আঙ্কারা The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

ওয়াশিংটন-তেহরান উত্তেজনা কমাতে সংলাপ চায় আঙ্কারা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jan 29, 2026 ইং
ওয়াশিংটন-তেহরান উত্তেজনা কমাতে সংলাপ চায় আঙ্কারা ছবির ক্যাপশন:
ad728

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা নিরসনে কূটনৈতিক উদ্যোগ হিসেবে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে তুরস্ক। শুক্রবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির তুরস্ক সফরের সময় এই প্রস্তাব তুলে ধরা হবে বলে জানিয়েছেন কূটনৈতিক সূত্র। একই সঙ্গে পরিস্থিতি আরও অবনতি হলে সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারের বিষয়টিও বিবেচনায় রেখেছে আঙ্কারা।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।
আব্বাস আরাগচির এই সফরটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা নতুন করে বাড়ছে। চলতি মাসের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে প্রাণঘাতী বিক্ষোভ দমনের ঘটনার জেরে দেশটির বিরুদ্ধে সামরিক হামলার হুমকি দেন। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের একটি নৌবহর মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় পৌঁছায়। ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, প্রয়োজন হলে ইরানে হামলা চালাতে যুক্তরাষ্ট্র সক্ষম।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তুর্কি এক কূটনৈতিক জানান, তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান শুক্রবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচিকে জানাবেন যে, আঙ্কারা সংলাপের মাধ্যমে বর্তমান উত্তেজনা প্রশমনে অবদান রাখতে প্রস্তুত। একই সঙ্গে তিনি ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো সামরিক হস্তক্ষেপের বিরোধিতা পুনর্ব্যক্ত করবেন।
সূত্রটির ভাষ্য অনুযায়ী, তুরস্ক মনে করে সামরিক হস্তক্ষেপ আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এ কারণে কূটনীতিক সমাধানই আঙ্কারার প্রধান অগ্রাধিকার।
এর আগে বুধবার আল জাজিরা টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হাকান ফিদান বলেন, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা পুনরায় শুরু হওয়া জরুরি। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানে হামলা চালায়, তাহলে তা হবে একটি ভুল সিদ্ধান্ত। কারণ ইরান আবারও পারমাণবিক ইস্যুতে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত রয়েছে।
তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়, আঙ্কারা স্বল্পমেয়াদে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে শান্তিপূর্ণ সমাধানে পৌঁছাতে সমর্থন দেবে এবং প্রয়োজনে এ বিষয়ে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
এদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এসমাইল বাকাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে আরাগচির সফর নিশ্চিত করে বলেন, তেহরান সুপ্রতিবেশী নীতি ও অভিন্ন স্বার্থের ভিত্তিতে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
বিশ্লেষকদের মতে, তুরস্ক আশঙ্কা করছে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হস্তক্ষেপ হলে তা ব্যাপক অস্থিতিশীলতা ও বড় ধরনের অভিবাসন সংকট সৃষ্টি করতে পারে। এ কারণেই আঙ্কারা কূটনীতিক পথকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
আঙ্কারাভিত্তিক ইরানি একাডেমিক আরিফ কেসকিন এএফপিকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনায় তুরস্কের প্রধান লক্ষ্য সব বিরোধের নিষ্পত্তি নয়, বরং সামরিক সংঘাত ঠেকানো। তার মতে, আলোচনা শুরু হওয়াটাই এই পর্যায়ে ইরানি নেতৃত্বের জন্য বড় অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এএফপিকে এক জ্যেষ্ঠ তুর্কি কর্মকর্তা জানান, কূটনৈতিক উদ্যোগের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলায় ইরান অস্থিতিশীল হয়ে পড়লে সীমান্তে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি মূল্যায়ন করছে আঙ্কারা। তিনি বলেন, প্রায় ৫০০ কিলোমিটার দীর্ঘ তুরস্ক-ইরান সীমান্তের বড় অংশ প্রাচীর দিয়ে সুরক্ষিত হলেও, তা পুরোপুরি পর্যাপ্ত নয়।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
আগামীর সংসদে উন্নয়ন ও গণতন্ত্রের কথা বলা হবে: সালাহউদ্দিন

আগামীর সংসদে উন্নয়ন ও গণতন্ত্রের কথা বলা হবে: সালাহউদ্দিন