ইরানের বিরুদ্ধে চলমান পাঁচ মাসের সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র তাদের মজুতে থাকা উন্নত নিখুঁত ক্ষেপণাস্ত্রের বড় অংশ ব্যবহার করেছে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে। অভ্যন্তরীণ তথ্যের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তিনটি সূত্রের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্যবহৃত অস্ত্রের মধ্যে মার্কিন সেনাবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ আর্মি ট্যাকটিক্যাল মিসাইল সিস্টেম (ATACMS) এবং প্রিসিশন স্ট্রাইক মিসাইল (PrSM) রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে ভবিষ্যতে সম্ভাব্য সংঘাত মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বে ইসরায়েলের সঙ্গে যৌথ অভিযানের মাধ্যমে ইরানে সামরিক অভিযান শুরু হয়। শুরুতে সংঘাত স্বল্পস্থায়ী হবে বলে ধারণা করা হলেও যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় দূরপাল্লার নিখুঁত ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
সূত্রগুলোর দাবি, চালকসহ যুদ্ধবিমান ব্যবহারের ঝুঁকি কমাতে ট্রাম্প প্রশাসন মূলত দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারে গুরুত্ব দেয়। এতে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) যুদ্ধ শুরুর আগে যে পরিমাণ স্থলভিত্তিক উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র মজুত রেখেছিল, তার প্রায় সবই ব্যবহৃত হয়েছে। বর্তমানে বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি থেকে নতুন করে এসব অস্ত্র সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (সিএসআইএস)-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফেব্রুয়ারি থেকে জুলাইয়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র তাদের প্রায় ৬৫ শতাংশ প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর এবং অন্তত ৩৮ শতাংশ THAAD ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এসব উন্নত অস্ত্র বর্তমানে রেকর্ড পরিমাণে উৎপাদিত হলেও দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের চাহিদার তুলনায় সরবরাহ এখনো সীমিত।
এদিকে, অস্ত্র মজুত কমে যাওয়ার খবর প্রকাশের পর হোয়াইট হাউস প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি বিবৃতি প্রকাশ করে। সেখানে তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বিশ্বের অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় বেশি অস্ত্র রয়েছে এবং প্রয়োজনের চেয়েও বেশি সামরিক সক্ষমতা দেশটির হাতে আছে।
অন্যদিকে, পেন্টাগনের প্রধান মুখপাত্র শন পার্নেল বলেন, মার্কিন সামরিক বাহিনী বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী বাহিনী এবং প্রেসিডেন্টের নির্দেশ অনুযায়ী যেকোনো সময় ও স্থানে অভিযান পরিচালনার পূর্ণ সক্ষমতা তাদের রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র একাধিক সামরিক কমান্ডে সফলভাবে অভিযান পরিচালনার জন্য পর্যাপ্ত অস্ত্র ও সামরিক সক্ষমতা বজায় রেখেছে।
কসমিক ডেস্ক