বিহারের বাঁকিপুর এবং মধ্যপ্রদেশের দাতিয়া বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনে বিজেপির অপ্রত্যাশিত পরাজয় দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে দলটির শক্তঘাঁটি হিসেবে পরিচিত দুটি আসনে এই ফলাফলকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা শুধু নির্বাচনী হার হিসেবে নয়, বরং ভোটারদের একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবেও দেখছেন।
বিহারের বাঁকিপুর আসনটি ১৯৯৫ সাল থেকে বিজেপির অন্যতম শক্ত ঘাঁটি। সদ্য দায়িত্ব পাওয়া সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন টানা পাঁচবার এই আসন থেকে নির্বাচিত হন। সভাপতি হওয়ার পর তিনি আসনটি ছেড়ে দিলে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তবে প্রার্থী নির্বাচন নিয়ে দলীয় পর্যায়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। প্রথমে একজনের নাম ঘোষণা করে পরে অন্য প্রার্থী দেওয়ায় ভোটারদের মধ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
এদিকে বিজেপির এক নেতার বিতর্কিত মন্তব্য—‘বিজেপির টিকিটে কুকুর-বিড়াল দাঁড়ালেও জিতবে’—নির্বাচনী প্রচারে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। এনডিএ জোটের শরিক এলজেপির নেতারাও এই মন্তব্যকে ভোটারদের বিরূপ প্রতিক্রিয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
অন্যদিকে মধ্যপ্রদেশের দাতিয়া আসনে দীর্ঘদিনের প্রভাবশালী নেতা নরোত্তম মিশ্রকে বাদ দিয়ে নতুন মুখ আশুতোষ তিওয়ারিকে প্রার্থী করায় দলের ভেতরে অসন্তোষ দেখা দেয়। নরোত্তম মিশ্র প্রকাশ্যেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই অভ্যন্তরীণ বিভক্তির প্রভাবও নির্বাচনের ফলাফলে প্রতিফলিত হয়েছে।
উপনির্বাচনের এই ফলাফলে সবচেয়ে বেশি চাপের মুখে পড়েছেন বিজেপির নতুন সভাপতি নীতিন নবীন এবং বিহারের মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী। বিরোধী নেতা প্রশান্ত কিশোর এই নির্বাচনকে সম্রাট চৌধুরীর নেতৃত্বের ওপর এক ধরনের গণরায় হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং দাবি করেছেন, ভোটাররা বর্তমান রাজ্য নেতৃত্বের প্রতি অসন্তোষের বার্তা দিয়েছেন।
তবে বিজেপির পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে পরাজয়ের কারণ নিয়ে বিস্তারিত কোনো মূল্যায়ন প্রকাশ করা হয়নি। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই ফলাফল দলটির জন্য ভবিষ্যৎ নির্বাচনের আগে সংগঠন, নেতৃত্ব এবং প্রার্থী নির্বাচন নিয়ে নতুন করে ভাবার সুযোগ তৈরি করেছে।
কসমিক ডেস্ক