ইরানে সরকারবিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ২০ বছর বয়সী তরুণ কর্মী আরভিন খিরখাহর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে দেশটির বিচার বিভাগ। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মানবাধিকার কর্মী ও সরকারবিরোধী নেতারা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে আরও কয়েকজন রাজনৈতিক বন্দির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আশঙ্কাও সামনে এসেছে।
ইরানি সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারিতে আরভিন খিরখাহকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে ‘ঈশ্বরের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা’সহ একাধিক অভিযোগে তাকে দোষী সাব্যস্ত করে আদালত মৃত্যুদণ্ডের রায় দেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে গত বুধবার তাকে একটি নির্জন কারাগারে স্থানান্তর করা হয়। রায় কার্যকর ঠেকানোর আশায় শুক্রবার রাতে কারাগারের বাইরে জড়ো হন তার পরিবারের সদস্যরা।
পরিবারের সঙ্গে শেষ সাক্ষাতে আরভিন বলেন, “আমাকে ভুলে যেও না। মাতৃভূমির স্বাধীনতার জন্য রুখে দাঁড়িয়েছিলাম। আমরা যে পথ বেছে নিয়েছিলাম, তা যেন স্তব্ধ না হয়।”
গত বছরের শেষ দিক থেকে ইরানে ইসলামি শাসনব্যবস্থা এবং সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনির বিরুদ্ধে সরকারবিরোধী আন্দোলন জোরদার হয়। দেশজুড়ে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভে লাখো মানুষ অংশ নেন। আন্দোলন দমনে বিপুলসংখ্যক বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগে বিচার কার্যক্রম শুরু হয়।
এদিকে, ইরানের সাবেক যুবরাজ রেজা পাহলভি এই মৃত্যুদণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, অদূর ভবিষ্যতে আরও কয়েকজন রাজনৈতিক বন্দির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হতে পারে। সম্ভাব্য তালিকায় জাভাদ আজাম, মুর্তজা জামানি, মেহদি রানজার, ফারশিদ রহমানি, আলিরেজা সাঘেরি এবং পুয়া সাঘেরির নাম উল্লেখ করেছেন তিনি।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, রাজনৈতিক ভিন্নমত দমনে মৃত্যুদণ্ডের ব্যবহার নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে সমালোচনা বাড়তে পারে।
কসমিক ডেস্ক