দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলায় গোপনে ঘোড়া জবাই করে মাংস বিক্রির প্রস্তুতির অভিযোগে তিন ব্যক্তিকে এক বছর করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ১২ মণ ঘোড়ার মাংস জব্দ করা হয়েছে।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার বিনোদনগর ইউনিয়নের গাজীপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জিল্লুর রহমান।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—নেত্রকোনা জেলার তিরিশ হাজার এলাকার আব্দুল্লাহ (৫৫), রংপুর সদর উপজেলার রুবেল হোসেন (৫০) এবং নীলফামারী-কিশোরগঞ্জ এলাকার রবিউল ইসলাম (৪৮)। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিজেই।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশসহ প্রশাসনের একটি দল সকালে ওই এলাকায় অভিযান চালায়। তথ্য অনুযায়ী, একটি গরুর খামারের ভেতরে ছয়টি ঘোড়া জবাই করে মাংস বিক্রির প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন অভিযুক্তরা।
তবে ঘটনার একপর্যায়ে অভিযুক্তদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব তৈরি হলে তাদেরই একজন পুলিশকে বিষয়টি জানায়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনজনকে আটক করে এবং বিষয়টি প্রশাসনকে অবহিত করে।
পরবর্তীতে ঘটনাস্থলেই ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রত্যেককে এক বছর করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। একই সঙ্গে জব্দ করা হয় বিপুল পরিমাণ ঘোড়ার মাংস।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জিল্লুর রহমান জানান, অভিযুক্তরা গোপনে ঘোড়া জবাই করে মাংস বিক্রির পরিকল্পনা করছিলেন। আইন অনুযায়ী এ ধরনের কর্মকাণ্ড দণ্ডনীয় হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, এ ধরনের অবৈধ কার্যক্রম রোধে প্রশাসনের নজরদারি অব্যাহত থাকবে এবং ভবিষ্যতেও এমন অভিযান পরিচালনা করা হবে।
স্থানীয়দের মতে, এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। একটি গরুর খামারে এভাবে ঘোড়া জবাই করে মাংস বিক্রির চেষ্টা স্থানীয়দের জন্য ছিল অপ্রত্যাশিত।
প্রশাসনের এই অভিযানের মাধ্যমে অবৈধভাবে মাংস বিক্রি ও জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি সৃষ্টিকারী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা দেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কসমিক ডেস্ক