ইউক্রেনের হামলায় অন্ধকারে সেভাস্তোপোল, বিদ্যুৎ সরবরাহে বিপর্যয় The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

ইউক্রেনের হামলায় অন্ধকারে সেভাস্তোপোল, বিদ্যুৎ সরবরাহে বিপর্যয়

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jun 25, 2026 ইং
ইউক্রেনের হামলায় অন্ধকারে সেভাস্তোপোল, বিদ্যুৎ সরবরাহে বিপর্যয় ছবির ক্যাপশন:

রাশিয়া-নিয়ন্ত্রিত ক্রিমিয়ার বৃহত্তম শহর সেভাস্তোপোলে ইউক্রেনের ড্রোন হামলার পর ব্যাপক বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিয়েছে। মস্কো-নিযুক্ত গভর্নর মিখাইল রাজভোজায়েভ জানিয়েছেন, হামলার কারণে শহরের বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে এবং কিছু অঞ্চলে বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত বিদ্যুৎ না-ও থাকতে পারে।

ইউক্রেনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তাদের ড্রোন হামলায় সেভাস্তোপোলের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎ সাবস্টেশন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি মূল্যায়নে কাজ করছে এবং জরুরি সেবা সংস্থাগুলোকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে।

টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় গভর্নর রাজভোজায়েভ বলেন, এই হামলার উদ্দেশ্য ছিল সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত করা এবং আতঙ্ক সৃষ্টি করা। তিনি নাগরিকদের শান্ত থাকার আহ্বান জানান এবং বিদ্যুৎ ও মোবাইল ফোনের ব্যাটারি সাশ্রয়ের পরামর্শ দেন। একই সঙ্গে তীব্র গরমের কারণে বয়স্ক ও অসুস্থ প্রতিবেশীদের খোঁজখবর নেওয়ার আহ্বানও জানানো হয়েছে।

ইউক্রেনের মনুষ্যবিহীন সিস্টেম বাহিনীর কমান্ডার রবার্ট ব্রোভডি জানিয়েছেন, এই অভিযানে ৪৮টি সক্রিয় ও পরিকল্পিত সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। একই সময়ে বাখচিসারাই, কের্চ এবং মাউন্ট আই-পেট্রি এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

২০১৪ সালে রাশিয়া ক্রিমিয়া দখল করার পর থেকে অঞ্চলটিকে বিচ্ছিন্ন করতে ইউক্রেন ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন কৌশলগত অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে আসছে। এসব হামলার ফলে জ্বালানি ও সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি রাশিয়া-সমর্থিত নেতা সের্গেই আকসিওনভ সাময়িকভাবে সব ধরনের পেট্রোল বিক্রি বন্ধের ঘোষণা দেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, কিছু গ্যারেজে সীমিত পরিমাণ জ্বালানি মজুত থাকলেও তা মূলত সরকারি ও জরুরি সেবার জন্য সংরক্ষিত রয়েছে। এদিকে সম্ভাব্য সংকটের আশঙ্কায় অনেক মানুষ অতিরিক্ত খাদ্য ও প্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে শুরু করেছেন। বিশেষ করে চিনির ঘাটতির খবর পাওয়া যাচ্ছে।

ক্রিমিয়াকে ইউক্রেনের অন্যান্য অঞ্চলের সঙ্গে সংযুক্ত করা গুরুত্বপূর্ণ সেতু ও যোগাযোগ অবকাঠামোকেও লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এখনো ক্রিমিয়াকে ইউক্রেনের অংশ হিসেবেই স্বীকৃতি দেয়, যদিও ২০১৪ সাল থেকে অঞ্চলটি রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রাতভর ইউক্রেন থেকে আসা ৩০০টির বেশি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। অন্যদিকে ইউক্রেনের বিমান বাহিনী দাবি করেছে, রাশিয়া তাদের দিকে ১০১টি ড্রোন ছুড়েছে, যার মধ্যে ৯৫টি ধ্বংস করা হয়েছে।

যুদ্ধের এই নতুন অধ্যায়ের মধ্যেই শান্তি আলোচনার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। গত ৪ জুন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি যুদ্ধবিরতি ও শান্তি আলোচনার লক্ষ্যে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে সরাসরি বৈঠকের আহ্বান জানিয়ে একটি খোলা চিঠি পাঠান। তবে পুতিন সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে মন্তব্য করেন, যুদ্ধবিরতির আগে শান্তি আলোচনার প্রক্রিয়া শুরু হওয়া উচিত।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
আবেগই আমার দুর্বলতা—নিজেকে যেভাবে দেখেন চমক

আবেগই আমার দুর্বলতা—নিজেকে যেভাবে দেখেন চমক