ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ডিজিটাল বাজার আইন (Digital Markets Act) লঙ্ঘনের অভিযোগে জরিমানার মুখে পড়ার পর নতুন করে বড় আইনি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে গুগল। আইনজীবীদের মতে, ইউরোপজুড়ে ক্ষতিগ্রস্ত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো সম্মিলিতভাবে গুগলের বিরুদ্ধে প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারে।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) প্রকাশিত রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি ইইউ নতুন ডিজিটাল বাজার আইনের আওতায় গুগলকে প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার জরিমানা করেছে। অভিযোগ রয়েছে, গুগল নিজেদের বিভিন্ন সেবা প্রতিযোগীদের তুলনায় অগ্রাধিকার দিয়ে প্রদর্শন করেছে এবং গুগল প্লে স্টোরের অ্যাপ ডেভেলপারদের অ্যাপের বাইরে কম দামে পণ্য বা সেবা বিক্রির সুযোগ সীমিত করেছে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই জরিমানার সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ক্ষতিপূরণ দাবি করে মামলা করার পথ আরও সহজ করে দিয়েছে। তাদের দাবি, গুগলের ব্যবসায়িক নীতির কারণে বহু বছর ধরে ইউরোপের অনেক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।
তবে গুগল সব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। প্রতিষ্ঠানটির বক্তব্য, প্রতিদ্বন্দ্বী কোম্পানিগুলো নিজেদের পণ্য ও সেবার উন্নয়নে বিনিয়োগ না করে আদালতের মাধ্যমে আর্থিক সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করছে।
ইতোমধ্যে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে গুগলের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা চলছে। ইতালির মাল্টিপ্লাই গ্রুপ প্রায় ২.৯৭ বিলিয়ন ইউরো ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে। সুইডেনের প্রাইসরানার প্রায় ১.৯৭ বিলিয়ন ডলার এবং যুক্তরাজ্যের কেলকুও কয়েক বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে। এছাড়া নেদারল্যান্ডসে গুগলের শপিং সেবাকে কেন্দ্র করে আরও দুটি মামলায় ১ বিলিয়ন ডলারের বেশি ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়েছে।
এই বিরোধের সূত্রপাত ২০০৮ সালে, যখন গুগল সার্চ ফলাফলে নিজেদের শপিং তুলনামূলক সেবাকে অগ্রাধিকার দিতে শুরু করে। এতে প্রতিদ্বন্দ্বী মূল্যতুলনা ওয়েবসাইটগুলোর ব্যবহারকারী ও আয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০১৭ সালে ইইউ গুগলকে ২.৪২ বিলিয়ন ইউরো জরিমানা করে। পরে ইউরোপের সর্বোচ্চ আদালতও সেই জরিমানা বহাল রাখে।
এছাড়া অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করে প্রতিযোগিতাবিরোধী আচরণের অভিযোগে ৪.১ বিলিয়ন ইউরোর আরেকটি মামলাতেও সম্প্রতি হেরে যায় গুগল। ২০১৭ সালের পর থেকে প্রতিযোগিতা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ইইউ গুগলের ওপর মোট ১০.৪ বিলিয়ন ইউরোর বেশি জরিমানা আরোপ করেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সর্বশেষ জরিমানার পর গুগলের বিরুদ্ধে আরও নতুন ক্ষতিপূরণ মামলা হতে পারে। তবে এসব মামলার নিষ্পত্তি হতে কয়েক বছর, এমনকি আট বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। এ সময়ের মধ্যে গুগল জরিমানার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিলও করতে পারে।
কসমিক ডেস্ক