চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার মুরাদপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ ভাটেরখীল এলাকায় গণপিটুনিতে নুরুল ইসলাম ইরান (৪৫) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। শনিবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পরে বিক্ষুব্ধ জনতা তার বসতবাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে।
নিহত নুরুল ইসলাম ইরান দক্ষিণ ভাটেরখীল গ্রামের বাসিন্দা এবং সম্প্রতি দায়ের হওয়া কিশোর নাঈম হত্যা মামলার অন্যতম আসামি ছিলেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, তিনি দীর্ঘদিন ধরে মাদক কারবার ও বিভিন্ন সহিংস কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আদালতের চূড়ান্ত রায় হয়নি।
স্থানীয় সূত্র জানায়, চিকিৎসাধীন অবস্থায় কিশোর নাঈমের মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে একদল বিক্ষুব্ধ মানুষ ইরানকে ঘিরে গণপিটুনি দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। ঘটনার পর তার বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
এর আগে গত ২০ জুলাই রাতে নাঈমকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে। পরিবারের দাবি, ইয়াবা হারানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাকে মারধর ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পাঁচ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ২৫ জুলাই তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় নাঈমের বাবা মো. খোকন বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহারে ইরানসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে নাঈমকে অপহরণ, নির্যাতন ও হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।
মুরাদপুর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য এজাহার জানান, ইরানের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে মাদক কারবার ও বিভিন্ন সহিংস কর্মকাণ্ডের অভিযোগ ছিল। এসব কারণে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ জমে ছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সীতাকুণ্ড থানার ওসি (তদন্ত) আলমগীর হোসেন জানান, নাঈম হত্যা মামলার সন্দেহভাজন আলতাফ হোসেনকে আটক করা হয়েছে এবং অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। একই সঙ্গে ইরানের গণপিটুনিতে মৃত্যুর ঘটনাও তদন্ত করা হচ্ছে।
পুলিশ জানিয়েছে, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। গণপিটুনি ও অগ্নিসংযোগে জড়িতদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কসমিক ডেস্ক