সিজেপি আন্দোলনের সমর্থনে টানা ২৬ দিন অনশন করার পর অনশন ভাঙার সিদ্ধান্ত নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার মুখে পড়েছেন সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক। যদিও আন্দোলনরত সংগঠনটি তার সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানিয়েছে, তবুও অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, আন্দোলনের অন্যতম দাবি পূরণ হওয়ার আগেই কেন তিনি অনশন প্রত্যাহার করলেন।
বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) গভীর রাতে হাসপাতালে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নড্ডা ও জিতেন্দ্র সিংহের উপস্থিতিতে অনশন ভাঙেন সোনম ওয়াংচুক। তিনি নিট পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদ এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে অনশন শুরু করেছিলেন।
অনশন ভাঙার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই অভিযোগ করেন, সরকারের সঙ্গে কোনো ধরনের সমঝোতার ভিত্তিতেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এ অভিযোগের জবাবে শুক্রবার রাতে হাসপাতাল থেকে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন ওয়াংচুক।
ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, টানা ২৬ দিন অনশনের পরও যদি তার আন্তরিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়, তাহলে তা অত্যন্ত দুঃখজনক। তিনি জানান, দীর্ঘ অনশন, শারীরিক ধকল এবং মানসিক চাপের কারণে তার শরীর মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, পেশির ক্ষয়, অভ্যন্তরীণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গের জটিলতা, মস্তিষ্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব এবং প্রায় ১১ কেজি ওজন কমে যাওয়ার মতো শারীরিক সমস্যা দেখা দিয়েছে।
সোনম ওয়াংচুক বলেন, যদি সত্যিই সরকারের সঙ্গে সমঝোতা করার ইচ্ছা থাকত, তাহলে তাকে ২৬ দিন অনশনে থাকতে হতো না। তিনি দাবি করেন, আরামদায়ক পরিবেশে বসেও এমন সমঝোতা করা সম্ভব ছিল। তাই তার অনশনকে কেন্দ্র করে যেসব অভিযোগ উঠেছে, সেগুলো ভিত্তিহীন।
এদিকে সিজেপির মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা জানান, সোনম ওয়াংচুকের অনশন ভাঙার সিদ্ধান্তের সঙ্গে আন্দোলনের মূল দাবির কোনো সম্পর্ক নেই। দীর্ঘ অনশনের কারণে তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে সংগঠনের নেতারাও উদ্বিগ্ন ছিলেন এবং একাধিকবার অনশন শেষ করার অনুরোধ জানিয়েছিলেন।
তিনি আরও বলেন, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগসহ আন্দোলনের দাবিগুলো পূরণ না হওয়া পর্যন্ত সিজেপির আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। ইতোমধ্যে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে সংগঠনের প্রতিনিধিদের বৈঠক হয়েছে এবং নিট পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
সোনম ওয়াংচুক তার ভিডিও বার্তায় আন্দোলনের কঠিন সময়ে পাশে থাকা সমর্থক, স্বেচ্ছাসেবক ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, আন্দোলনের উদ্দেশ্য এখনো অপরিবর্তিত রয়েছে এবং শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবির প্রতি তার সমর্থন অব্যাহত থাকবে।
কসমিক ডেস্ক