মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার রহিমপুর ইউনিয়নের দেওড়াছড়া চা বাগানে কর্মরত এক অন্তঃসত্ত্বা নারীর মৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবার ও সহকর্মীদের অভিযোগ, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা না পাওয়ায় তার মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে বাগানের শ্রমিকরা কর্মবিরতি পালন করে বিক্ষোভে নেমেছেন।
মারা যাওয়া নারীর নাম রিয়া বেগম (২২)। তিনি একই বাগানের স্থায়ী শ্রমিক সাব্বির মিয়ার স্ত্রী। জানা গেছে, অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় অসুস্থ হয়ে পড়লে তার পরিবারের পক্ষ থেকে বাগান কর্তৃপক্ষের কাছে চিকিৎসা সহায়তা চাওয়া হয়। তবে অভিযোগ রয়েছে, বাগান থেকে কোনো ধরনের সহায়তা দেওয়া হয়নি।
পরিবারের দাবি, প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা না হওয়ায় বুধবার (১ এপ্রিল) গভীর রাতে রিয়া বেগমের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে বাগানের অন্যান্য শ্রমিকদের মধ্যে।
ঘটনার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সকাল থেকে দেওড়াছড়া চা বাগানের শ্রমিকরা কর্মবিরতি পালন করেন এবং বিক্ষোভ শুরু করেন। শ্রমিকরা বাগান ব্যবস্থাপকের বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগ তুলে তার পদত্যাগ দাবি করেন।
বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশ নেন বাগান পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি সুবোধ কুর্মি, নাজির আহমদ, সঞ্জয় কানু, পলাশ কর্মকার, ছালু মিয়া, লক্ষ্মী নারায়ণ, ইব্রাহিম মিয়া, সুভাষ ভৌমিজ, বাবু লাল ভৌমিজ, অজয় ভৌমিক, সেলিম মিয়া, জসিম মিয়া, বায়না মিয়া, শুকুর মিয়া প্রমুখ। তারা সবাই একত্র হয়ে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
শ্রমিকদের ভাষ্য অনুযায়ী, টাকার অভাবে এবং বাগান কর্তৃপক্ষের সহায়তা না পাওয়ায় রিয়া বেগম চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হন। ফলে তার মৃত্যু ঘটে, যা সম্পূর্ণভাবে অবহেলার ফল বলে তারা মনে করছেন।
এদিকে, কর্মবিরতির খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান কমলগঞ্জ থানার এসআই আমির হোসেন, বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের মনু দলই ভ্যালির সভাপতি ধনা বাউরী এবং রহিমপুর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সিতাংশু কর্মকার। তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন এবং শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেন।
রহিমপুর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সিতাংশু কর্মকার জানান, বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে। আলোচনার ফলাফলের ওপর নির্ভর করবে শ্রমিকরা কাজে ফিরবেন নাকি আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।
অন্যদিকে, অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে দেওড়াছড়া চা বাগানের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জহিরুল হকের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। শ্রমিকরা দ্রুত তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়ে তাদের আন্দোলন অব্যাহত রাখার ইঙ্গিত দিয়েছেন।