দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলা শক্তিশালী জোড়া ভূমিকম্পের আঘাতে বড় ধরনের সংকটের মুখে পড়েছে। স্থানীয় সময় ২৪ জুন সন্ধ্যায় স্বল্প সময়ের ব্যবধানে ৭.২ এবং ৭.৫ মাত্রার দুটি ভূমিকম্প দেশটির মধ্য ও পশ্চিমাঞ্চলে আঘাত হানে। কম্পনের প্রভাব রাজধানী কারাকাসসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় অনুভূত হয় এবং বহু স্থানে অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএসের তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্প দুটির উৎপত্তিস্থল ছিল কারাকাসের পশ্চিমাঞ্চলীয় উপকূলীয় এলাকার কাছে। দ্বিতীয় ভূমিকম্পটি প্রথমটির তুলনায় আরও শক্তিশালী ছিল এবং এর পরও একাধিক আফটারশক বা পরাঘাত অনুভূত হয়েছে।
পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি Delcy Rodríguez দেশব্যাপী জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন। তিনি উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম জোরদারের নির্দেশ দেন এবং জনগণকে শান্ত থাকার পাশাপাশি সরকারি নির্দেশনা অনুসরণের আহ্বান জানান।
প্রাথমিক প্রতিবেদনে রাজধানী কারাকাস ও আশপাশের এলাকায় কয়েকটি ভবন ধসে পড়ার তথ্য পাওয়া গেছে। কিছু এলাকায় মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। উদ্ধারকর্মীরা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করছেন।
ভূমিকম্পের কারণে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কারাকাসের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ, পরিবহন ও অন্যান্য সেবা ব্যাহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
ইউএসজিএস জানিয়েছে, ভূমিকম্পের মাত্রা ও প্রভাব বিবেচনায় প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি উল্লেখযোগ্য। তবে এখন পর্যন্ত হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ সরকারি হিসাব প্রকাশ করা হয়নি। উদ্ধার অভিযান এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি আরও পরিষ্কার হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কম্পনের প্রভাব ভেনেজুয়েলার সীমানা ছাড়িয়ে প্রতিবেশী দেশগুলোতেও অনুভূত হয়েছে। বিশেষ করে কলম্বিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে ভূমিকম্পের কম্পন টের পাওয়ার খবর এসেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভূমিকম্প-পরবর্তী আফটারশকের ঝুঁকি এখনো রয়েছে। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে এবং জরুরি ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে চলতে বলা হয়েছে।
কসমিক ডেস্ক